বাইকের ব্রেক প্যাড ক্ষয়ঃ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতদিন পর পর পরিবর্তন করা উচিত?

Md. Anowarul Haque
time
5 মিনিটে পড়া যাবে
feature image

মোটরসাইকেল রাইডারের নিরাপত্তার জন্য ভালো মানের ব্রেক সিস্টেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক প্যাড, বাইকের ব্রেক সিস্টেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেক প্যাড মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রেক প্যাড ক্ষয় হতে থাকে। পরিবেশ এবং আবহাওয়া খারাপ থাকলে ব্রেক প্যাডের স্থায়িত্ব আরও কমে যায়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কত কিলোমিটার পরপর ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করা উচিত।

বাংলাদেশের রাস্তায় যানজটে ঘন ঘন ব্রেকিং, ধুলো-বালি, অসমান রাস্তা, কর্দমাক্ত রাস্তা, অ্যাগ্রেসিভ রাইডিং, ইত্যাদি কারণে ব্রেক প্যাড দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। এছাড়া ভারী ওজন এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলেও প্যাড দ্রুত ক্ষয় হয়। তাই ব্রেক প্যাডের যত্ন, রক্ষণাবেক্ষণ, এবং পরিবর্তনের সময় সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। এই ব্লগে বাইকের ব্রেক প্যাড ক্ষয়ের কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতদিন পরপর ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করা উচিত, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বাইকের ব্রেক প্যাড কত ঘন ঘন পরিবর্তন করা উচিত

মোটরসাইকেলের ব্রেকিং সিস্টেমে দুটি করে রোটার এবং ব্রেক প্যাড থাকে, ব্রেক চাপলে এগুলো ফ্রিকশন সৃষ্টি করে বাইকের স্পিড কমাতে এবং থামাতে সাহায্য করে। একটি উন্নত মানের ব্রেক প্যাড ভালো আবহাওয়ায় ২০,০০০ কিলোমিটারের বেশি সার্ভিস দিতে পারে। তবে অভিজ্ঞ বাইকার ও সার্ভিস সেন্টারগুলোর পরামর্শ মতে বাংলাদেশে সাধারণত ৫০০০-৭০০০ কিমি বা ১.৫-২ বছর পরপর ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করা উচিত। নকল কিংবা নিম্নমানের প্যাড ব্যবহার করলে আরও আগেই প্যাড ক্ষয় হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্রেক প্যাড কত ঘন ঘন পরিবর্তন করা উচিত, তা নির্ভর করে আপনি কেমন রাস্তায় কীভাবে ড্রাইভ করেন এবং কত ফ্রিকোয়েন্টলি ব্যবহার করেন। শহরের ট্রাফিকে নিয়মিত ড্রাইভ করলে একটি ভালো মানের ব্রেক প্যাড ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেশ ভালো সার্ভিস দিতে পারে। হাইওয়ে রোডে এটি ১০,০০০ - ১২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেশ ভালো সার্ভিস দিতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোটরসাইকেলের ব্রেক প্যাড কেন দ্রুত ক্ষয় হয়

বাংলাদেশে রাস্তার ধুলো-ময়লা এবং বর্ষায় কাদা মাটি ব্রেক প্যাড, রোটার এবং ডিস্কের মাঝে সহজেই ঢুকে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে, এগুলো শিরিষ কাগজের মতো প্যাডকে ক্ষয় করতে থাকে। বাংলাদেশের ট্রাফিক জ্যাম এবং স্পিড ব্রেকারে ঘন ঘন ব্রেক ধরতে হয়, তাই অতিরিক্ত ব্যবহারে ব্রেক প্যাড দ্রুত ক্ষয়ে যায়। বাংলাদেশের অসমান রাস্তাও ব্রেক প্যাড ক্ষয়ে যাবার অন্যতম কারণ। আপনি যদি নিয়মিত কাঁচা রাস্তা, অফরোডে কিংবা পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তায় ড্রাইভ করেন, তাহলেও ব্রেক প্যাড প্রত্যাশিত সময়ের আগেই ক্ষয়ে যাবে।

ধুলো-ময়লা এবং পানি ব্রেক প্যাডের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া দেশের অনেক মানুষ বাইক শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন, তাই অতিরিক্ত লোড এবং মাত্রাতিরিক্ত বাইক ব্যবহার হয়, এতে ব্রেক প্যাড প্রত্যাশিত সময়ের আগেই ক্ষয় হয়। ক্ষয়ে যাওয়া প্যাড নিয়মিত ব্যবহারে প্যাডের ভিতরের লোহার প্লেট সরাসরি রোটারের সাথে ফ্রিকশন করে। ফলে ডিস্ক প্লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ডিস্ক প্লেটের দাম ব্রেক প্যাডের চেয়ে অনেক বেশি।

ব্রেক প্যাড ক্ষয়ের লক্ষণ সমূহ

১. ব্রেক চাপার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হলে

ব্রেক ধরলে কিচকিচ বা ধাতব ঘর্ষণের মতো তীক্ষ্ণ শব্দ হলে বুঝবেন প্যাডের ফ্রিকশন প্রতিরোধ স্তর ক্ষয় হয়েছে। ব্রেক প্যাডে ধাতব ট্যাব থাকে, প্যাড ক্ষয় হয়ে গেলে ডিস্কের সাথে ঘষা খেয়ে এমন শব্দ হয়। অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া প্যাড ক্ষয়ের প্রাথমিক লক্ষণ। এই লক্ষণ বোঝা মাত্রই প্যাড পরিবর্তন করা উচিত।

২. ব্রেক প্যাডের উপরের দৃশ্যমান লেয়ার পাতলা হয়ে গেলে

মোটরসাইকেলের ব্রেক ক্যালিপারের ভেতরে প্যাড দেখা যায়। এসব প্যাডে ফ্রিকশন ম্যাটেরিয়াল সাধারণত ৫-৮ মিমি পুরু হয়। এই পুরুত্ব ২-৩ মিমি-এর মতো হলে বুঝবেন প্যাড পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

৩. ব্রেকিং পারফরম্যান্স অস্বাভাবিক লাগলে

ব্রেক ধরলে সাথে সাথে রেসপন্স না করলে, ভাইব্রেশন করলে, পোড়া গন্ধ আসলে, কিংবা ব্রেক লিভারে বেশি প্রেশার দেয়া লাগলে, বুঝবেন প্যাড পরিবর্তনের সময় হয়েছে। সাধারণত ব্রেক প্যাড অসমানভাবে ক্ষয়ে গেলে ব্রেক ধরলে ভাইব্রেশন অনুভূত হয়।

কীভাবে ব্রেক প্যাডের স্থায়িত্ব বাড়াবেন

  • স্বাভাবিক গতিতে ড্রাইভ করুন।
  • যানজটে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
  • সপ্তাহে একদিন ডিস্ক, রোটার সহ ব্রেক প্যাড পরিষ্কার করুন।
  • বৃষ্টির সিজনে ব্রেক প্যাড নিয়মিত চেক করুন।
  • অতিরিক্ত ওজন বহন করা থেকে বিরত থাকুন।
  • অযথা ব্রেক চেপে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
  • গিয়ার কমিয়ে ইঞ্জিন ব্রেকিং ব্যবহারের অভ্যাস করুন।
  • প্রস্তুতকারকের প্রস্তাবিত সময়ের মধ্যে ব্রেক ফ্লুইড পরিবর্তন করুন।
  • বছরে ১-২ বার সম্পূর্ণ ব্রেক সিস্টেম সার্ভিসিং করান।
  • প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনে উন্নত মানের ভালো ব্র্যান্ডের ব্রেক প্যাড ব্যবহার করুন।
  • পরিশেষে

    মোটরসাইকেলের ব্রেক প্যাডের যত্ন এবং পরিবর্তনের ব্যাপারে ধারণা থাকা রাইডারের সেফটির জন্য জরুরি। বাংলাদেশে মসৃণ রাস্তার সংখ্যা খুব কম। অসমান এবং ট্রাফিকে রাস্তায় ক্ষয়ে যাওয়া ব্রেক প্যাড নিয়ে বাইক চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেইসাথে ধুলোবালি এবং যানজটপূর্ণ পরিবেশে বাইকের ব্রেক প্যাড দ্রুত ক্ষয় হওয়াই স্বাভাবিক।

    ব্রেক করার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হলে, ভাইব্রেশন হলে, ব্রেক লিভারে বেশি চাপ দেবার প্রয়োজন হলে, এবং প্যাডের পুরুত্ব বেশি কমে গেলে ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করতে হবে। ব্রেক প্যাড ক্ষয় হলে ব্রেকিং পাওয়ার কমে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। হঠাৎ ব্রেক করলে মোটরবাইক স্লিপ করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ব্রেক প্যাড পরিদর্শন করা উচিত এবং ক্ষয় হলে প্রতিস্থাপন করা উচিত।

    সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

    ১. বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্রেক প্যাড সাধারণত কত কিলোমিটার পরপর পরিবর্তন করা উচিত?

    বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বাইকার ও সার্ভিস সেন্টারগুলোর পরামর্শ মতে বাংলাদেশে সাধারণত ৫০০০-৭০০০ কিমি বা ১.৫-২ বছর পর পর ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করা উচিত।

    ২. কী কী লক্ষণ দেখলে বুঝবেন ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করতে হবে?

    ব্রেক চাপার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হলে, ব্রেক প্যাডের উপরের দৃশ্যমান লেয়ার পাতলা হয়ে গেলে, ভাইব্রেশন করলে, পোড়া গন্ধ আসলে, কিংবা ব্রেক লিভারে বেশি প্রেশার দেয়া লাগলে, বুঝবেন প্যাড পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

    ৩. বাংলাদেশের ব্রেক প্যাড কেন দ্রুত ক্ষয় হয়?

    বাংলাদেশে রাস্তার ধুলো-ময়লা এবং বর্ষায় কাদা মাটি ব্রেক প্যাড, রোটার এবং ডিস্কের মাঝে সহজেই ঢুকে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে, এগুলো শিরিষ কাগজের মতো প্যাডকে ক্ষয় করতে থাকে। বাংলাদেশের ট্রাফিক জ্যাম এবং স্পিড ব্রেকারে ঘন ঘন ব্রেক ধরতে হয়, তাই অতিরিক্ত ব্যবহারে ব্রেক প্যাড দ্রুত ক্ষয়ে যায়।

    ৪. বৃষ্টির সিজনে ব্রেক প্যাড দ্রুত নষ্ট হয়?

    হ্যাঁ। কাদা মাটি এবং পানি ব্রেক প্যাডের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

    ৫. সস্তা ব্রেক প্যাড ব্যবহার করলে কী ক্ষতি হবে?

    সস্তা কিংবা নিম্নমানের প্যাড ব্যবহার করলে ডিস্ক প্লেট দ্রুত ক্ষয়ে যায় এবং ব্রেক ঠিকমতো ধরে না। ফলে ডিস্ক প্লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ডিস্ক প্লেটের দাম ব্রেক প্যাডের চেয়ে অনেক বেশি।

    অনুরূপ খবর

    • Maintenance & Care Tips

      মোটরসাইকেলের গিয়ার শিফটিং সমস্যাঃ কারণ ও সমাধান

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      শহরের যানজটে ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      আপনার গাড়ির শক অ্যাবজর্বার নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ইঞ্জিন ওয়ার্ম আপ না করলে কীভাবে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি ডেড হলে কী করবেন

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      যানবাহনের ইঞ্জিন মিসফায়ারিং এর লক্ষণগুলো কীভাবে শনাক্ত করবেন?

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ধুলোপ্রবণ শহরে নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকায় মরিচা ও ক্ষয় যেভাবে প্রতিহত করবেন

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশন: ৮০-১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশনের কারণ কী?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      নিজ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ওয়ার্কশপ কীভাবে বেছে নেবেন

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে

    সর্বশেষ গাড়ির রিভিউ

    • Suzuki Alto K10 2015

      Hatchback

      ৳ 800K - 1.2M

    • Toyota Aqua 2014

      Hatchback

      ৳ 1.5M - 1.6M

    • Suzuki Swift 2017

      Hatchback

      ৳ 1.7M - 2.2M

    • Toyota Vitz 2017

      Hatchback

      ৳ 1.8M - 2.3M

    • Nissan Leaf 2014

      Hatchback

      ৳ 1.6M - 2.2M

    • Mitsubishi Montero 2015

      SUV & 4X4

      ৳ 4.5M - 6M

    • Suzuki Wagon R 2018

      Hatchback

      ৳ 750K - 1.1M

    • Honda Civic 2019

      Saloon & Sedan

      ৳ 3.5M - 4.5M

    • Land Rover Defender 2020

      SUV & 4X4

      ৳ 14M - 18M

    • Mitsubishi Lancer 2017

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.5M - 3M

    • Toyota Axio 2016

      Saloon & Sedan

      ৳ 1.8M - 2.4M

    • Toyota Premio G Superior 2018

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.3M - 3M

    সর্বশেষ বাইকের রিভিউ

    • Hero Ignitor 125 2020 IBS

      ৳ 115.7K - 128.5K

    • Honda X-Blade 160 ABS

      ৳ 194.9K - 216.5K

    • Honda Livo 110 Drum

      ৳ 107.9K - 119.9K

    • Keeway TXM 150

      ৳ 161.1K - 179K

    • Suzuki Gixxer Monotone

      ৳ 182K - 192K

    • Suzuki Gixxer SF Matt Plus

      ৳ 315K - 350K

    • Yamaha R15 S

      ৳ 409.5K - 455K

    • Hero Hunk 150 R Dual Disc ABS

      ৳ 166.1K - 232K

    • TVS Apache RTR 165 RP

      ৳ 297K - 360K

    • Suzuki Intruder FI ABS

      ৳ 247.5K - 320K

    • Suzuki Bandit 150

      ৳ 288K - 320K

    • KTM RC 125

      ৳ 333K - 566K

    hero

    আপনার গাড়ি বা বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন মাত্র ২ মিনিটে পোস্ট করুন একদম ফ্রি!