আপনার গাড়ির শক অ্যাবজর্বার নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ

গাড়ির শক অ্যাবজর্বার কম্ফোর্টেবল রাইডিং এবং নিরাপদ ড্রাইভিং-এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাস্তার ছোট-বড় ঝাঁকুনি শোষণ করে, সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে গাড়িকে স্থিতিশীল রাখে। সময়ের সাথে সাথে নিয়মিত ব্যবহারে কিংবা নিয়মিত সার্ভিসিং করা না হলে, এটি ক্ষয় হতে থাকে। শক অ্যাবজর্বারে সমস্যা হলে, গাড়ি অফরোড কিংবা উঁচু-নিচু রাস্তার ঝাঁকুনি ভালোভাবে শোষণ করতে পারে না। এতে গাড়ির হ্যান্ডলিং দুর্বল এবং সাসপেনশন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই এটিকে অবহেলা করা মানে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মেরামতের খরচ বৃদ্ধি।
শক অ্যাবজর্বার বিকল হবার কিছু সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি বা বাউন্সিং, ব্রেক করলে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া, টায়ারের অস্বাভাবিক ক্ষয় বা কাপিং, গাড়ি একপাশে হেলে যাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ, তেল লিক করা, স্টিয়ারিং হুইল কম্পন, ইত্যাদি। এই ব্লগে গাড়ির শক অ্যাবজর্বার নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
কীভাবে বুঝবেন আপনার গাড়ির শক অ্যাবজরবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
শক অ্যাবজর্বারের সমস্যা এড়িয়ে গেলে এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মেরামত খরচ বাড়ে এবং গাড়ির আয়ু কমে। তবে লক্ষণগুলো চেনা থাকলে আপনি সময়মতো সার্ভিসিং করতে পারবেন।
১. অতিরিক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করা
শক অ্যাবজর্বার স্প্রিংয়ের কম্পন নিয়ন্ত্রণ করে, ধাক্কা শোষণ করে গাড়িকে স্থিতিশীল রাখে। খেয়াল করুন গাড়ি চালানোর সময় সাধারণ রাস্তাতেও অতিরিক্ত ঝাঁকুনি অনুভব হচ্ছে কিনা। যদি দুলতে থাকে, তবে ধরে নিতে হবে শক অ্যাবজর্বার কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এছাড়া স্পিড ব্রেকার পার হবার পর গাড়ি কয়েক সেকেন্ড ধরে দুলতে থাকে বা ১-২ বারের বেশি বাউন্স করলে বুঝবেন শক দুর্বল হয়ে গেছে।
২. ব্রেক করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া
ব্রেক করার সময় যদি গাড়ির সামনের অংশ নিচের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে শকে কোনো সমস্যা হয়েছে। এছাড়া শক দুর্বল থাকলে অ্যাক্সিলারেশনের সময় গাড়ির পিছনের অংশও অতিরিক্ত স্কোয়াট করে। এতে টায়ারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, এবং ব্রেকিং-এ নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। ফলে জরুরি অবস্থায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে ভেজা বা পিচ্ছিল রাস্তায়।
৩. ড্রাইভ করার সময় গাড়ি একপাশে হেলে যাওয়া
গাড়ি মোড় ঘোরানোর সময় একপাশে বেশি হেলে গেলে, এটি শকের অকার্যকারিতার ইঙ্গিত। এছাড়া মোড় ঘোরার সময় চালকের গাড়ির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন মনে হতে পারে। এমন সমস্যা নিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
৪. অসম টায়ার ক্ষয় হওয়া
টায়ারে অসমান ক্ষয় থাকলে দ্রুত সাসপেনশন চেক করতে হবে। শক অ্যাবজর্বার দুর্বল হলে টায়ার রাস্তার সাথে সমান্তরালে থাকে না, অর্থাৎ টায়ারে অসমান চাপ পড়ে। ফলে টায়ারের কিছু অংশ বেশি ক্ষয়ে যায় আর কিছু অংশ নতুনের মতো থাকে।
৫. শক অ্যাবজর্বার থেকে তেল লিক হওয়া
চাকা বা সাসপেনশনে তৈলাক্ত রেখা বা দাগ থাকলে বুঝবেন সিল ভেঙে শক থেকে তেল লিক হয়েছে। শক অ্যাবজর্বারের ভিতরে এই তেল থাকে যা পিস্টনের মাধ্যমে কম্প্রেশন ও রিবাউন্ড নিয়ন্ত্রণ করে। এটি গাড়ির ঝাঁকুনি ও কম্পন কমাতে সাহায্য করে। এই তরল কমে গেলে বা লিক হলে শকের ডাম্পিং ক্ষমতা অনেক কমে যায়।
৬. স্টিয়ারিং হুইল এবং হ্যান্ডলিং সমস্যা
দুর্বল শক অ্যাবজর্বারের কারণে চাকা লাফায়। এই কম্পন সাসপেনশনের মাধ্যমে স্টিয়ারিং হুইলে ঘনঘন কম্পন অনুভূত হয়। শক দুর্বল হলে অতিরিক্ত বাউন্সিং-এর কারণে টায়ারের রোড কন্টাক্ট কমে যায় তাই হ্যান্ডলিং খারাপ হয়।
৭. অস্বাভাবিক শব্দ আসা
শক দুর্বল বা খারাপ হয়ে গেলে গাড়ি থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসে। রাস্তার ধাক্কা ঠিক ভাবে শোষণ করতে না পারায়, সাসপেনশনের বিভিন্ন ধাতব অংশ একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়। এই ধাক্কাই অস্বাভাবিক শব্দ তৈরি করে।
কখন বুঝবেন গাড়ির শক অ্যাবজর্বার বদলানো দরকার?
গাড়ির বাউন্স পরীক্ষা করুন। গাড়ির এক কোণে জোরে ধাক্কা দিন, গাড়ি থামার আগে যদি দুবারের বেশি লাফ দেয়, তাহলে শকগুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তেল লিক হলে শক পরিবর্তন করতে হবে। একজন অভিজ্ঞ মেকানিক দেখান। মাউন্ট, বুশিং, স্প্রিং সহ সাসপেনশন সিস্টেমের সব পার্টস চেক করান। সামনে এবং পেছনের শক অ্যাবজর্বার একসাথে বদলানো ভালো।
পরিশেষে
শক অ্যাবজর্বার রাস্তার স্পিড ব্রেকার বা খানাখন্দের ধাক্কা শোষণ করে গাড়ির সাসপেনশনকে স্থিতিশীল রাখে। এতে ঝাঁকুনি কম অনুভূত হয় এবং গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ভালো থাকে। সঠিক সময়ে শক অ্যাবজর্বার বদলানো না হলে চালক এবং যাত্রীর কম্ফোর্টেবল রাইডিং এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। অনেকেই গাড়ির বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং ইঞ্জিনের দিকে খেয়াল রাখলেও সাসপেনশনের বিষয় এড়িয়ে যান। অনেকে বুঝতেই পারেন না এটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, কারণ এর ক্ষয় ধীরে ধীরে হয়। সাসপেনশন সিস্টেমে সমস্যা হলে গাড়ির ব্রেকিং সিস্টেম এবং টায়ারেরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. শক অ্যাবজর্বার কী কাজ করে?
শক অ্যাবজর্বার রাস্তার ছোট-বড় ঝাঁকুনি শোষণ করে, সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে গাড়িকে স্থিতিশীল রাখে। এতে ঝাঁকুনি কম অনুভূত হয় এবং গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ভালো থাকে। এটি গাড়ির সাসপেনশন সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২. শক অ্যাবজর্বার খারাপ হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি বা বাউন্সিং, ব্রেক করলে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া, টায়ারের অস্বাভাবিক ক্ষয় বা কাপিং, গাড়ি একপাশে হেলে যাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ, তেল লিক করা, স্টিয়ারিং হুইল কম্পন, ইত্যাদি।
৩. ব্রেক করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া কী স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, তবে ব্রেক করার সময় যদি গাড়ির সামনের অংশ নিচের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে শকে কোনো সমস্যা হয়েছে।
৪. শক অ্যাবজর্বার থেকে কী তেল লিক হতে পারে?
হ্যাঁ পারে। শক অ্যাবজর্বারের ভিতরে এই তেল থাকে যা পিস্টনের মাধ্যমে কম্প্রেশন ও রিবাউন্ড নিয়ন্ত্রণ করে। চাকা বা সাসপেনশনে তৈলাক্ত রেখা বা দাগ থাকলে বুঝবেন সিল ভেঙে শক থেকে তেল লিক হয়েছে।
৫. কখন বুঝবেন গাড়ির শক অ্যাবজর্বার বদলানো দরকার?
গাড়ির বাউন্স পরীক্ষা করুন। গাড়ির এক কোণে জোরে ধাক্কা দিন, গাড়ি থামার আগে যদি দুবারের বেশি লাফ দেয়, তাহলে শকগুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এছাড়া তেল লিক হলে শক পরিবর্তন করতে হবে।







































