চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকায় মরিচা ও ক্ষয় যেভাবে প্রতিহত করবেন

নদীমাতৃক এই দেশে আমাদের প্রতিনিয়ত ভ্যাপসা গরম ও বৃষ্টির মাঝে থাকতে হয়। আর চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় শহরে আর্দ্রতা ও লোনা বাতাস তো নিত্যদিনের ব্যপার। তবে আবহাওয়া যেমনই হোক, এর মাঝেই আমাদের নিয়মিত বাইক নিয়ে বের হতে হয়। আর উপকূলীয় শহরের এই লোনা বাতাস আপনার শখের বাইকের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর। ঠিকমতো যত্ন না নিলে খুব দ্রুতই আপনার বাইকের বডিতে মরিচার ক্ষয় দেখা দিতে পারে। এর ফলে আপনার বাইক কেবল বাহির থেকে নয়, বরং বাইকের গঠন ভেতর থেকেও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
তবে সঠিকভাবে যত্ন নিলে উপকূলীয় অঞ্চলেও বাইককে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। ছোটখাটো বাইক রক্ষণাবেক্ষণ এর কিছু বিষয়ে নজর রাখলেই বাইকের আয়ু অনেকদিনের জন্য বাড়িয়ে ফেলা যায়।
উপকূলীয় এলাকায় বাইকে দ্রুত জং ধরে কেন?
ধাতব বস্তু বাতাস ও পানির সংস্পর্শে এলেই তাতে মরিচা ধরে। আর উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের লবণের পরিমাণ বেশি থাকায় এই মরিচার ক্ষয় ধরার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত বেড়ে যায়। বাইকের মেটাল অংশগুলো বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নেয়। বিশেষ করে বাইকের ফ্রেম, চ্যাসিস, সাইলেন্সার পাইপ ও চেইনে সবার আগে মরিচা দেখা দেয়। তাই এই অংশগুলোর দিকে বাড়তি নজর দেয়া উচিৎ।
বাইক চালকরা সচরাচর যেই ভুলগুলো করেন
বাইক ঠিকমতো পরিস্কার না করা
অনেকেই ভাবেন বাইক পরিষ্কার দেখালে আর ধোয়ার প্রয়োজন নেই। এই ভুলটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। বাইক দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও এর আনাচে-কানাচে লবণের কণা জমে থাকে। তাই নিয়মিত বাইক ওয়াশ করা খুবই গুরত্বপূর্ণ।
বাইক ভেজা রাখা
বাইক ধোয়ার পর বা বৃষ্টির পর বেশিক্ষণ ভেজা অবস্থায় বাইক ফেলে রাখা যাবে না। শুকনো কাপড় দিয়ে বাইকের গায়ে লেগে থাকা পানি মুছে ফেলতে হবে।
চেইনের যত্ন না নেওয়া
বাইকের চেইন যেহেতু খোলা অবস্থায় থাকে, তাই এতে দ্রুত মরিচা ধরে যায়। বাইক আরামদায়কভাবে চালানোর জন্য নিয়মিত চেইন পরিষ্কার করতে হবে। আর এজন্য চেইনে নিয়মিত লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা করলে এর স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।
মরিচার স্পট এড়িয়ে যাওয়া
মরিচার ছোট একটি স্পট থেকে এক সময় বেশ বড় আকারের ক্ষতি হতে পারে। তাই ছোট কোনো মরিচার স্পট চোখে পড়লে দ্রুত সেটি নিরসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
মরিচা এড়াতে যা যা করা জরুরি
উপকূলীয় এলাকায় থাকলে বাইককে ক্ষয় থেকে সুরক্ষা করতে যত্ন একটু স্মার্টভাবে নিতে হবে। কিছু পদক্ষেপ নিলেই বাইক হতে পারে নতুনের মতো।
- জয়েন্ট এবং খোলা মেটাল অংশে মাঝেমধ্যে অ্যান্টি-রাস্ট স্প্রে ব্যবহার করুন।
- বাতাসের আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে চেইনে নিয়মিত চেইন লুব্রিকেন্ট দিন।
- সাইলেন্সার পাইপ বা এক্সহস্ট সিস্টেমে হিট-রেজিস্ট্যান্ট কোটিং ব্যবহার করতে পারেন।
স্মার্ট পার্কিং এর অভ্যাস গড়ুন
বাইক কোথায় রাখছেন, তার ওপর জং ধরা অনেকটাই নির্ভর করে। সাগরের কাছাকাছি খোলা আকাশের নিচে বাইক রাখা আর জেনেশুনে বাইকের ক্ষতি করা একই কথা। ভালো অভ্যাসগুলো হলোঃ
- সবসময় ছাদ বা শেডের নিচে বাইক পার্ক করা।
- এমন কাভার ব্যবহার করা যার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে।
- প্লাস্টিকের কাভার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এতে ভেতরে ঘাম জমে উল্টো ক্ষতি হয়।
- বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ যে কারণে জরুরি
উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ করা বেশ জরুরি। এর ফলে সহজেই বাইকের মরিচা বা অন্যান্য ক্ষয় চোখে পড়ে, যা পরবর্তীতে হয়তো কোন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এজন্য -
- বাইকের জয়েন্টগুলো ঠিকমতো খেয়াল করুন।
- বাইকের চেইনে নিয়মিত লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন।
- বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো খেয়াল করুন।
- প্রয়োজনীয় অংশে আবারও রঙ করুন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বাতাসের আর্দ্রতা এবং লোনা বাতাসের ফলে বাইকে দ্রুত মরিচা দেখা দিতে পারে। এর থেকে সুরক্ষার জন্য দরকার নিয়মিত বাইক রক্ষণাবেক্ষণ। বাইক ধুয়ে রাখা, শুকনো রাখা, কোটিং ব্যবহার করা বাইক রক্ষণাবেক্ষণের অংশ। এগুলো কেবল বাইকের আয়ুই বৃদ্ধি করে না, বাইক চালানোর নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. উপকূলীয় অঞ্চলে মরিচা প্রতিরোধ জরুরি কেন?
বাতাসের আর্দ্রতা এবং লোনা বাতাসের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে বাইকে দ্রুত মরিচা দেখা দিতে পারে। এর থেকে সুরক্ষার জন্য দরকার নিয়মিত বাইক রক্ষণাবেক্ষণ।
২. উপকূলীয় অঞ্চলে কতদিন পর পর বাইক ওয়াশ করা উচিৎ?
সপ্তাহে অন্তত একবার এবং বৃষ্টিতে বাইক রাইড করার পর সাথে সাথেই বাইক ওয়াশ করতে হবে।
৩. বাইকের কোন অংশে দ্রুত মরিচা ধরে?
বাইকের ফ্রেম, চ্যাসিস, সাইলেন্সার পাইপ ও চেইনে সবার আগে মরিচা দেখা দেয়।
৪. অ্যান্টি-রাস্ট স্প্রে কি আসলেই কাজ করে?
হ্যাঁ, অ্যান্টি-রাস্ট স্প্রে ব্যবহারের ফলে বাইকের বডির সার্ফেসে প্রোটেকটিভ লেয়ার যুক্ত হয়।
৫. মরিচার ফলে কি বাইকের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে?
হ্যাঁ, মরিচার ফলে বাইকের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে, যা এর পারফরম্যান্সে প্রভাব রাখে।