শহরের যানজটে ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

Md. Anowarul Haque
time
5 মিনিটে পড়া যাবে
feature image

ব্রেক ডিস্ক ওয়ার্পিং বলতে ব্রেক করার সময় ডিস্কের পৃষ্ঠ অসমান হয়ে যাওয়ার কারণে যে পালসেশন অনুভূত হয়, তাকে বোঝায়। ডিস্ক ডিস্ক ব্রেক সিস্টেমে একটি স্টিলের রটার চাকার হাবের সাথে বোল্ট দিয়ে সংযুক্ত থাকে। ব্রেক চাপলে, ব্রেক প্যাড এই ডিস্কের দুই পাশ থেকে চেপে ধরে মোটরযান থামায়। শহরের 'স্টপ-অ্যান্ড-গো' ট্রাফিকের কারণে মোটরযানের ব্রেক ঘন ঘন চাপতে হয়। দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে রাখলে ব্রেক ডিস্কে অত্যধিক তাপ সৃষ্টি হয়, পরে ঠান্ডা হওয়ার সময় অসমানভাবে বেঁকে বা ওয়ার্প হয়ে যায়। এছাড়া অসমান ঘর্ষণের ফলে ডিস্ক সারফেস নষ্ট হয়। এতে ব্রেক করার সময় গাড়িতে ধাক্কা বা ঝাঁকুনি অনুভূত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।

ব্রেক ডিস্ক ওয়ার্পিং হয়ে গেলে সাধারণত রিপেয়ার করা যায় না, তাই মোটা অঙ্কের খরচ হয়ে যায়। সচেতন ড্রাইভিং অভ্যাস, কিছু ছোটখাটো ড্রাইভিং কৌশল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে, এরকম সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এই ব্লগে শহরের যানজটে ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন এবং সুরক্ষিত রাখবেন, এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া সমস্যা হবার কারণ

ঘন ঘন ব্রেক করলে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ডিস্ক প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। প্রচন্ড গরমে স্টিল বেঁকে যেতে পারে। ব্রেক ডিস্ক গরম থাকা অবস্থায় বৃষ্টির পানি বা কাদা মাটি লাগলে স্টিল সংকুচিত হয়ে বাঁকা হয়ে যায়। ব্রেক প্যাড ক্ষয়ে গেলে ডিস্কের ওপর তাপ সমানভাবে ছড়ায় না, এতে ডিস্ক সারফেস নষ্ট হয়। এছাড়া চাকায় ডিস্ক প্লেট ঠিক ভাবে এডজাস্ট না থাকলে, ডিস্কের ওপর চাপ পড়ে তা বেঁকে যেতে পারে। ব্রেক করার সময় ভাইব্রেশন হওয়া, স্টিয়ারিং হুইল ডানে-বামে কাঁপা, অস্বাভাবিক শব্দ, ইত্যাদি ডিস্ক ওয়ার্পিংয়ের প্রধান লক্ষণ।

শহরের ট্রাফিকে ব্রেক ডিস্ক ওয়ার্পিং প্রতিরোধ করার কৌশল

১. দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে ধরে রাখার অভ্যাস পরিবর্তন করুন

ট্র্যাফিক সিগন্যালে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকলে ব্রেক চেপে রাখবেন না। দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে রাখলে ডিস্ক প্লেট অনেক গরম হয়ে যায়। ব্রেক প্যাড ডিস্ক প্লেটের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চেপে থাকে, এতে প্লেটের বাকি অংশ ঠান্ডা হয়। অসমান তাপমাত্রার কারণে ডিস্ক প্লেট বেঁকে যায়। দীর্ঘ সময় সিগন্যালে আটকে থাকলে নিউট্রাল গিয়ার বা হ্যান্ড ব্রেক ব্যবহার করুন।

২. ধীরে ব্রেক করুন

হঠাৎ কিংবা জোরে ব্রেক কষা এড়িয়ে চলুন। হঠাৎ করে ব্রেক না করে আগে থেকে স্পিড কমান। আকস্মিকভাবে ব্রেক কষলে ডিস্ক খুব দ্রুত গরম হয়ে যায়। সামনের গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

৩. ঘন ঘন থামা ও চলা এড়িয়ে চলুন

বারবার স্টপ-অ্যান্ড-গো ড্রাইভিংয়ে সতর্ক থাকুন, এটি ব্রেক ডিস্কের জন্য ক্ষতিকর। শহরের ট্রাফিকে কম গিয়ারে ইঞ্জিন ব্রেকিং ব্যবহার করুন। জ্যামে আটকে গেলে ব্রেক ছেড়ে দিন এবং পার্কিং ব্রেক ব্যবহার করুন।

৪. ক্রিপিং এড়িয়ে চলুন

ব্রেক পুরোপুরি না ছেড়ে গাড়িকে ধীরে ধীরে আগাতে দেয়া কে ক্রিপিং বলে। এতে ব্রেক প্যাড এবং ডিস্কের মধ্যে অনবরত ঘর্ষণ হয় এবং ডিস্ক প্লেটে অসমান চাপ পড়ে। ফলে ডিস্ক সারফেস নষ্ট হতে থাকে।

৫. ট্রাফিকে ইঞ্জিন ব্রেকিং ব্যবহার করুন

ট্রাফিকে ব্রেক ডিস্কের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ইঞ্জিন ব্রেকিং ব্যবহারের অভ্যাস করুন। ম্যানুয়াল গাড়ির ক্ষেত্রে লোয়ার গিয়ার ব্যবহার করুন। অটোম্যাটিক গাড়িতে গিয়ার ডাউনশিফট করে ইঞ্জিনের সাহায্যে গতি কমান।

৬. গরম ডিস্ক প্লেট পানির সংস্পর্শে না আনা

ডিস্ক প্লেট গরম অবস্থায় ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসলে 'থার্মাল শক' তৈরি হয়, এতে ডিস্ক হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে বেঁকে যেতে পারে। ড্রাইভিংয়ের পর কিছু সময় (৫-১৫ মিনিট) স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে দিন, তারপর গাড়ি পরিষ্কার করুন। জোরে ব্রেক করার পরপরই পানি ছিটানো এড়িয়ে চলুন এবং গরম ব্রেকে পানি স্প্রে করবেন না।

৭. ব্রেক প্যাডের যত্ন নিন

ব্রেক প্যাড ক্ষয় হলে ডিস্কের ওপর অসম চাপ সৃষ্টি হয়। প্যাড বেশি ক্ষয়ে গেলে ডিস্ক প্লেটের সাথে মেটাল ফ্রিকশন হয়ে, ডিস্ক সারফেসে স্ক্র্যাচ পরে। হিট-রেজিস্ট্যান্ট সেমি-মেটালিক ব্রেক প্যাড ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত লুব্রিকেট করুন।

ব্রেক ডিস্ক ওয়ার্পিং প্রতিরোধে আরো কিছু রক্ষণাবেক্ষণ টেকনিক

  1. নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্রেক প্যাড ও ব্রেক ফ্লুইড পরীক্ষা করুন।
  2. বাহনে অতিরিক্ত ওজন কমান, এটি ব্রেকের ওপর চাপ বাড়ায়।
  3. ডিস্কের প্লেটের পুরুত্ব এবং অবস্থা পরীক্ষা করুন।
  4. নিয়মিত টায়ার প্রেশার এবং সাসপেনশন চেক করুন।
  5. ভেনটিলেটেড কিংবা স্লটেড ডিস্ক ব্যবহার করুন, এগুলো তাপ দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।
  6. সিরামিক বা সেমি-মেটালিক প্যাড ব্যবহার করুন এগুলো প্রচুর তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে।
  7. রেডিয়েটর এবং কুল্যান্ট নিয়মিত চেক করুন।

পরিশেষে

শহরের ট্রাফিকে ব্রেক ডিস্ক ওয়ার্পিং একটি সাধারণ সমস্যা। তবে জান-মালের নিরাপত্তায় এই সমস্যা থেকে আমাদের নিরাপদ থাকা উচিত। সচেতন ড্রাইভিং টেকনিক এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে রাখা, হঠাৎ হার্ড ব্রেক এবং ডিস্ক গরম থাকা অবস্থায় পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকলে, আপনার গাড়ির ব্রেক ডিস্ক দীর্ঘসময় মজবুত থাকবে। এতে আপনার গাড়ি নিরাপদ থাকবে, এবং অতিরিক্ত খরচ থেকেও রক্ষা পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. ব্রেক ডিস্ক ওয়ার্পিং কী?

ব্রেক ডিস্ক ওয়ার্পিং হলো ব্রেক ডিস্কের উপরিভাগ অসমান বা বাঁকা হয়ে যাওয়া। ডিস্ক ডিস্ক ব্রেক সিস্টেমে একটি স্টিলের রটার চাকার হাবের সাথে বোল্ট দিয়ে সংযুক্ত থাকে। ব্রেক চাপলে, ব্রেক প্যাড এই ডিস্কের দুই পাশ থেকে চেপে ধরে মোটরযান থামায়। দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে রাখলে অত্যধিক তাপ সৃষ্টি হয়, পরে ঠান্ডা হওয়ার সময় অসমানভাবে বেঁকে বা ওয়ার্প হয়ে যায়।

২. শহরের ট্রাফিকে ব্রেক ডিস্ক গরম হওয়ার প্রধান কারণ কী?

শহরের 'স্টপ-অ্যান্ড-গো' ট্রাফিকের কারণে মোটরযানের ব্রেক ঘন ঘন চাপতে হয়। বারবার ব্রেক চাপার ফলে ডিস্ক ঠান্ডা হওয়ার যথেষ্ট সময় পায় না, ফলে এটি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়।

৩. ট্রাফিকে দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে রাখলে কী কোনো ক্ষতি হয়?

দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে রাখলে ডিস্ক প্লেট অনেক গরম হয়ে যায়। ব্রেক প্যাড, ডিস্ক প্লেটের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চেপে থাকে, এতে প্লেটের বাকি অংশ ঠান্ডা হয়। অসমান তাপমাত্রার কারণে ডিস্ক প্লেট বেঁকে যায়।

৪. গরম ব্রেক ডিস্ক পানির সংস্পর্শে আসলে কী ক্ষতি হতে পারে?

ডিস্ক প্লেট গরম অবস্থায় ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসলে 'থার্মাল শক' তৈরি হয়, এতে ডিস্ক হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে বেঁকে যেতে পারে। তাই জোরে ব্রেক করার পরপরই পানি ছিটানো এড়িয়ে চলুন এবং গরম ব্রেকে পানি স্প্রে করবেন না।

৫. কী কী ড্রাইভিং অভ্যাস ব্রেক ডিস্ক ভালো রাখতে সহায়ক?

দীর্ঘক্ষণ ব্রেক চেপে ধরে রাখার অভ্যাস পরিবর্তন করুন, ধীরে ব্রেক করুন, জোরে ব্রেক কষা এড়িয়ে চলুন, ইঞ্জিন ব্রেকিং ব্যবহার করুন, দূরত্ব বজায় রাখা, ইত্যাদি ড্রাইভিং অভ্যাস ব্রেক ডিস্ক ভালো রাখতে সহায়ক।

অনুরূপ খবর

  • Maintenance & Care Tips

    মোটরসাইকেলের গিয়ার শিফটিং সমস্যাঃ কারণ ও সমাধান

    time
    5 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    শহরের যানজটে ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

    time
    5 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    আপনার গাড়ির শক অ্যাবজর্বার নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ

    time
    5 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    ইঞ্জিন ওয়ার্ম আপ না করলে কীভাবে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি ডেড হলে কী করবেন

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    যানবাহনের ইঞ্জিন মিসফায়ারিং এর লক্ষণগুলো কীভাবে শনাক্ত করবেন?

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    ধুলোপ্রবণ শহরে নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকায় মরিচা ও ক্ষয় যেভাবে প্রতিহত করবেন

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশন: ৮০-১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশনের কারণ কী?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    নিজ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ওয়ার্কশপ কীভাবে বেছে নেবেন

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে

সর্বশেষ গাড়ির রিভিউ

  • Suzuki Alto K10 2015

    Hatchback

    ৳ 800K - 1.2M

  • Toyota Aqua 2014

    Hatchback

    ৳ 1.5M - 1.6M

  • Suzuki Swift 2017

    Hatchback

    ৳ 1.7M - 2.2M

  • Toyota Vitz 2017

    Hatchback

    ৳ 1.8M - 2.3M

  • Nissan Leaf 2014

    Hatchback

    ৳ 1.6M - 2.2M

  • Mitsubishi Montero 2015

    SUV & 4X4

    ৳ 4.5M - 6M

  • Suzuki Wagon R 2018

    Hatchback

    ৳ 750K - 1.1M

  • Honda Civic 2019

    Saloon & Sedan

    ৳ 3.5M - 4.5M

  • Land Rover Defender 2020

    SUV & 4X4

    ৳ 14M - 18M

  • Mitsubishi Lancer 2017

    Saloon & Sedan

    ৳ 2.5M - 3M

  • Toyota Axio 2016

    Saloon & Sedan

    ৳ 1.8M - 2.4M

  • Toyota Premio G Superior 2018

    Saloon & Sedan

    ৳ 2.3M - 3M

সর্বশেষ বাইকের রিভিউ

  • Hero Ignitor 125 2020 IBS

    ৳ 115.7K - 128.5K

  • Honda X-Blade 160 ABS

    ৳ 194.9K - 216.5K

  • Honda Livo 110 Drum

    ৳ 107.9K - 119.9K

  • Keeway TXM 150

    ৳ 161.1K - 179K

  • Suzuki Gixxer Monotone

    ৳ 182K - 192K

  • Suzuki Gixxer SF Matt Plus

    ৳ 315K - 350K

  • Yamaha R15 S

    ৳ 409.5K - 455K

  • Hero Hunk 150 R Dual Disc ABS

    ৳ 166.1K - 232K

  • TVS Apache RTR 165 RP

    ৳ 297K - 360K

  • Suzuki Intruder FI ABS

    ৳ 247.5K - 320K

  • Suzuki Bandit 150

    ৳ 288K - 320K

  • KTM RC 125

    ৳ 333K - 566K

hero

আপনার গাড়ি বা বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন মাত্র ২ মিনিটে পোস্ট করুন একদম ফ্রি!