ইঞ্জিন ওয়ার্ম আপ না করলে কীভাবে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়?

Nishat Tahmid Munni
time
4 মিনিটে পড়া যাবে
feature image

অনেক চালক আছে যারা গাড়ি স্টার্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই চালানো শুরু করে দেয়। দেখা যায় ইঞ্জিন এক্ষেত্রে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পৌঁছানোর সুযোগ পায় না। আধুনিক গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় আইডল রাখা প্রয়োজন না হলেও একেবারেই বাদও দেওয়া যায় না। একেবারেই ওয়ার্ম আপ বাদ দিলে তা ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ও স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঠান্ডা অবস্থায় ইঞ্জিন অয়েল ঘন থাকে, যার কারণে লুব্রিকেশন কম কার্যকর হয় এবং অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ সমানভাবে প্রসারিত হতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি অতিরিক্ত ক্ষয় সৃষ্টি করে এবং ইঞ্জিনের আয়ু কমিয়ে দেয়।

কেন ওয়ার্ম আপ বাদ দিলে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

১. তেলের সঠিক প্রবাহ ব্যাহত হয়

ইঞ্জিন ঠান্ডা অবস্থায় থাকলে তেল তুলনামূলকভাবে ঘন ও ধীরগতির হয়। ফলে স্টার্ট দেওয়ার পরপরই দ্রুত গতি বাড়ালে তেল সব যন্ত্রাংশে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে না। এতে দেখা যায় ইঞ্জিনের যেই ধাতব জিনিসগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে সরাসরি ঘর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ক্ষয় হয়।

২. যন্ত্রাংশে অস্বাভাবিক ক্ষয়

ইঞ্জিনের ধাতব উপাদানগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছালে স্বাভাবিকভাবে সঠিক নিয়মে কাজ করে। কিন্তু পর্যাপ্ত উষ্ণতার আগেই চাপ দিলে, ধাতব উপাদানগুলোর মাঝে অসম ঘর্ষণ হয়। যার ফলে এগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যায়।

৩. জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি

যখন ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকে তখন সঠিক দহন নিশ্চিত করতে তুলনামূলক বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এই সময় ফুয়েল মিশ্রণ থাকে, যা জ্বালানি দক্ষতাকে কমিয়ে দেয়। ওয়ার্ম আপ ছাড়া গাড়ি চালালে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ বাড়ে।

৪. লুব্রিকেশন দক্ষতা কমে যায়

পিস্টন, সিলিন্ডার ও ভালভের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলো মূলত সঠিক অয়েল ফিল্মের উপর নির্ভরশীল। শুরুতেই যদি উচ্চ গতি বা চাপ দেওয়া হয়, তাহলে পর্যাপ্ত লুব্রিকেশন তৈরি হওয়ার আগেই এসব অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে লুব্রিকেশন দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যায়।

৫. কার্বন জমার ঝুঁকি বাড়ে

আমরা জানি যে ঠান্ডা অবস্থায় জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে দহন হয় না। যার কারণে সময়ের সাথে সাথে ইঞ্জিনের ভেতরে কার্বন ডিপোজিট জমতে থাকে। এইজন্য দেখা যায় একটা সময় পরে ইঞ্জিনের পারফর্ম করার ক্ষমতা আগের মতো থাকে না ও দীর্ঘমেয়াদে অন্যান্য যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়।

৬. অভ্যন্তরীণ অংশে অতিরিক্ত চাপ

ইঞ্জিন ঠান্ডা অবস্থায় যখন দ্রুত এক্সিলারেশন করা হয়, তখন বেয়ারিং, ক্র্যাঙ্কশ্যাফট ও কানেক্টিং রডের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। যখন বার বার চাপ পড়তে থাকে, তখন ধীরে ধীরে ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব কমে যেতে থাকে।

৭. শীতকালে কর্মক্ষমতা কমে যায়

স্বাভাবিকভাবেই শীতকালে ইঞ্জিন অয়েল ও অন্যান্য ফ্লুইড সঠিক তাপমাত্রায় পৌঁছাতে বেশি সময় নেয়। পর্যাপ্ত ওয়ার্ম আপ ছাড়া চালালে ইঞ্জিনের রেস্পন্স কমে যায় এবং সেই সাথে যান্ত্রিক চাপ বৃদ্ধি পায়।

৮. ট্রান্সমিশনে প্রভাব ফেলে

অটোমেটিক ট্রান্সমিশন সঠিকভাবে কাজ করে তখনই যখন ফ্লুইড নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছায়। তাই ঠান্ডা অবস্থায় দ্রুত গতি বাড়ালে ট্রান্সমিশন কম্পোনেন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

৯. দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্যতা কমে যায়

নিয়মিত ওয়ার্ম আপ বাদ দেওয়া ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ ক্ষয় দ্রুততর করে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পায়।

১০. ব্যয়বহুল মেরামতের ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা অবস্থায় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে বড় ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এই ধরণের সমস্যার সমাধানে ব্যয়বহুল মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে, এমনকি পুরো ইঞ্জিনের মেরামতেরও দরকার হতে পারে।

শেষ কথা

ওয়ার্ম আপ মানে দীর্ঘ সময় আইডল রাখা নয়। মাত্র ২০-৬০ সেকেন্ড ইঞ্জিনকে স্থিতিশীল হতে দিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রা না আসা পর্যন্ত ধীরে ধীরে গাড়ি চালান। এই ছোট কিন্তু সচেতন একটা অভ্যাস ইঞ্জিনের আয়ু বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. ইঞ্জিন কতক্ষণ ওয়ার্ম আপ করা উচিত?

সাধারণত ২০-৬০ সেকেন্ড ইঞ্জিনকে ওয়ার্ম আপ করা যথেষ্ট। এরপর স্বাভাবিক অপারেটিং তাপমাত্রা না আসা পর্যন্ত ধীরে ও মসৃণভাবে গাড়ি চালানো উচিত।

২. আধুনিক গাড়িতে কি ওয়ার্ম আপ দরকার?

হ্যাঁ, আধুনিক গাড়িতেও অল্প সময়ের জন্য হলেও ওয়ার্ম আপ করতে হবে। দীর্ঘ সময় আইডল রাখা জরুরি নয়। স্টার্ট এর পর অল্প গতিতে চালানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

৩. ১০ মিনিট আইডল রাখা কি ভালো?

না। অতিরিক্ত আইডল রাখলে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ হয়। জ্বালানি অসম্পূর্ণ দহন হলে কার্বন জমার ঝুঁকিও বাড়ে।

৪. শীতে কি ইঞ্জিন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে হয়। শীতকালে তেল ঘন থাকে এবং ধীর গতিতে প্রবাহিত হয়। ফলে স্টার্টের পরপরই ঘর্ষণ তুলনামূলক বেশি হয়।

৫. ওয়ার্ম আপ বাদ দিলে কি ইঞ্জিনের আয়ু কমে?

দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত ঠান্ডা অবস্থায় চাপ প্রয়োগ করলে অভ্যন্তরীণ ক্ষয় বাড়ে, যা ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

অনুরূপ খবর

  • Maintenance & Care Tips

    মোটরসাইকেলের গিয়ার শিফটিং সমস্যাঃ কারণ ও সমাধান

    time
    5 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    শহরের যানজটে ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

    time
    5 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    আপনার গাড়ির শক অ্যাবজর্বার নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ

    time
    5 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    ইঞ্জিন ওয়ার্ম আপ না করলে কীভাবে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি ডেড হলে কী করবেন

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    যানবাহনের ইঞ্জিন মিসফায়ারিং এর লক্ষণগুলো কীভাবে শনাক্ত করবেন?

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    ধুলোপ্রবণ শহরে নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকায় মরিচা ও ক্ষয় যেভাবে প্রতিহত করবেন

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশন: ৮০-১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশনের কারণ কী?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Maintenance & Care Tips

    নিজ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ওয়ার্কশপ কীভাবে বেছে নেবেন

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে

সর্বশেষ গাড়ির রিভিউ

  • Suzuki Alto K10 2015

    Hatchback

    ৳ 800K - 1.2M

  • Toyota Aqua 2014

    Hatchback

    ৳ 1.5M - 1.6M

  • Suzuki Swift 2017

    Hatchback

    ৳ 1.7M - 2.2M

  • Toyota Vitz 2017

    Hatchback

    ৳ 1.8M - 2.3M

  • Nissan Leaf 2014

    Hatchback

    ৳ 1.6M - 2.2M

  • Mitsubishi Montero 2015

    SUV & 4X4

    ৳ 4.5M - 6M

  • Suzuki Wagon R 2018

    Hatchback

    ৳ 750K - 1.1M

  • Honda Civic 2019

    Saloon & Sedan

    ৳ 3.5M - 4.5M

  • Land Rover Defender 2020

    SUV & 4X4

    ৳ 14M - 18M

  • Mitsubishi Lancer 2017

    Saloon & Sedan

    ৳ 2.5M - 3M

  • Toyota Axio 2016

    Saloon & Sedan

    ৳ 1.8M - 2.4M

  • Toyota Premio G Superior 2018

    Saloon & Sedan

    ৳ 2.3M - 3M

সর্বশেষ বাইকের রিভিউ

  • Hero Ignitor 125 2020 IBS

    ৳ 115.7K - 128.5K

  • Honda X-Blade 160 ABS

    ৳ 194.9K - 216.5K

  • Honda Livo 110 Drum

    ৳ 107.9K - 119.9K

  • Keeway TXM 150

    ৳ 161.1K - 179K

  • Suzuki Gixxer Monotone

    ৳ 182K - 192K

  • Suzuki Gixxer SF Matt Plus

    ৳ 315K - 350K

  • Yamaha R15 S

    ৳ 409.5K - 455K

  • Hero Hunk 150 R Dual Disc ABS

    ৳ 166.1K - 232K

  • TVS Apache RTR 165 RP

    ৳ 297K - 360K

  • Suzuki Intruder FI ABS

    ৳ 247.5K - 320K

  • Suzuki Bandit 150

    ৳ 288K - 320K

  • KTM RC 125

    ৳ 333K - 566K

hero

আপনার গাড়ি বা বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন মাত্র ২ মিনিটে পোস্ট করুন একদম ফ্রি!