গাড়ির এসি ঠিকমতো ঠান্ডা করছে না? গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সাধারণ কারণসমূহ

Md. Anowarul Haque
time
5 মিনিটে পড়া যাবে
feature image

গরমের দিনেই মূলত গাড়ির এয়ার কন্ডিশন (এসি) বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে প্রয়োজনের সময় গাড়ির এসি ঠিকমতো কাজ না করাটা হতাশাজনক হতে পারে। বিশেষ করে গরম এবং ভ্যাপসা আবহাওয়ায় এটি আরো কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। রেফ্রিজারেন্ট বা এসি গ্যাস কমে যাওয়া, নিয়মিত সার্ভিসিং না করা, মাত্রাতিরিক্ত এসি ব্যবহার সহ যান্ত্রিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে এসি কাঙ্ক্ষিত শীতলতা দিতে পারে না। গ্যাস লিক, ডাস্ট ফিল্টার ব্লক হওয়া, এবং কনডেন্সারের ত্রুটির কারণেও গাড়ির এসি ভেন্ট দিয়ে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস আসে না।

ভোগান্তি এড়াতে আপনার গাড়ির এসি সিস্টেম নিয়মিত চেকআপ করান। এটি শুধু আরামই নিশ্চিত করে না, বরং এসির স্থায়িত্বও বাড়ায়। এই ব্লগে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কেন গাড়ির এসি ভালোভাবে ঠান্ডা দেয় না, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। গাড়ির এসি ঠিকভাবে ঠান্ডা না হওয়া সমস্যার সম্ভাব্য কারণ এবং সমাধান জানা থাকলে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সহজ হবে।

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কেন গাড়ির এসি ভালোভাবে ঠান্ডা দেয় না?

১. রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস কমে যাওয়া বা লিক হওয়া

রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমের মূল উপাদান। নিয়মিত ব্যবহারে গাড়ির এসি গ্যাস ১০-১৫% হারে কমতে থাকে। কোনো ভাবে সিস্টেমে লিক বা ক্ষয় হলে কম্প্রেসর পর্যাপ্ত প্রেশার তৈরি করতে পারে না। গরমে হোস এবং ও-রিং এর ছোট লিক থেকে দ্রুত গ্যাস বেরিয়ে যায়। এতে বাতাস কম ঠান্ডা হয় এবং রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস দ্রুত শেষ হতে থাকে। ধুলা, গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া লিক হওয়া স্থানে ময়লা জমিয়ে, এসি সিস্টেম আরো নাজুক করে তোলে।

২. কেবিন এয়ার ফিল্টার ব্লক হয়ে হওয়া

কেবিন এয়ার ফিল্টার গাড়ির ভিতরে রাস্তার ধুলোবালি, গন্ধ, এবং আর্দ্রতা আটকে দেয়। এই ফিল্টারটি গাড়ির ড্যাশবোর্ডের ভেতরে থাকে। রাস্তায় থাকা ধুলো ময়লা এই ফিল্টারকে ব্লক করে দেয়। ফিল্টার ব্লক হয়ে গেলে এসি ভেন্ট দিয়ে বাতাসের প্রবাহ কমে যায়, তাই গাড়ির কেবিন ঠান্ডা হতে সময় লাগে। সময়মতো পরিষ্কার না করা হলে আর্দ্র আবহাওয়ায় এয়ার ফিল্টারে ছত্রাক জমে। এছাড়া গাড়ির ভেতরের বাতাস দ্রুত বের হতে না পারায় এসি ভেন্ট নষ্ট হতে থাকে।

৩. কনডেন্সার নোংরা হয়ে আটকে যাওয়া

কনডেন্সার গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দেয়। এটি গাড়ির রেডিয়েটরের সামনে থাকে। রাস্তার ধুলো, ময়লা, পোকা, ইত্যাদি কনডেন্সারে আটকে গ্রিল বন্ধ হয়ে যায়। আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ময়লা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। এতে ইঞ্জিনের তাপ এবং কেবিনের গরম ভালোভাবে বের হতে পারে না। বাইরের তাপমাত্রার সাথে কনডেন্সার গরম হয়ে গেলে এসির রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস অপচয় হয়। অতিরিক্ত গরমে কম্প্রেশার ওভারলোড হয় এবং এসির পারফরম্যান্স কমতে থাকে।

৪. কম্প্রেসর দুর্বল হয়ে যাওয়া

কম্প্রেসর একটি এসির অন্যতম প্রধান অংশ। কম্প্রেসর ঠিক না থাকলে গ্যাস সার্কুলেশন হয় না এবং ক্লাচ স্লিপ করে। নিয়মিত সার্ভিসিং না করা হলে, কম্প্রেসর দুর্বল হতে থাকে। এতে গ্যাসের সঠিক চাপ তৈরি হয় না, তাই কেবিন ঠান্ডা হতে সময় লাগে। এছাড়া কম্প্রেসর ওভারহিট হলে রেফ্রিজারেন্টকে সঠিকভাবে সঞ্চালন করতে পারে না।

৫. অতিরিক্ত আর্দ্রতার ইভাপোরেটর কয়েলে বরফ এবং ছত্রাক জমে যায়

অতিরিক্ত আর্দ্রতার প্রভাব কমাতে এসিকে বেশি এনার্জি খরচ করতে হয়। এতে ইভাপোরেটরে পানি জমে যায়। এসির ড্রেনেজ সিস্টেম পরিষ্কার না থাকলে ইভাপোরেটরের পানি বের হতে পারে না। এছাড়া থার্মোস্ট্যাটে কোনো সমস্যা থাকলেও এই পানি বের হতে পারে না। পরবর্তীতে ঠান্ডা বাতাসে ইভাপোরেটর কয়েলে অতিরিক্ত পানি বরফ হয়ে বায়ু চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এতে গাড়ির কেবিন ঠান্ডা হতে অনেক সময় নেয়।

৬. ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে কোনো সমস্যা হলে

ফিউজ, প্রেশার সুইচ, টেম্পারেচার সেন্সর, ওয়্যারিং, ইত্যাদিতে কোনো সমস্যা থাকলে এসি সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করে না। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। রেডিয়েটর ফ্যানে ময়লা জমলে কনডেন্সার ঠান্ডা হতে পারে না। এছাড়া কুলিং ফ্যান এবং ব্লোয়ার মোটর দুর্বল হলে এসি থেকে ঠান্ডা বাতাস কম আসে।

গাড়ির এসি পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হবার সমস্যা সমাধানে কিছু প্রতিকার ও পরামর্শ

  • বছরে অন্তত একবার এসি সার্ভিস করুন। মূলত ক্যাবিন ফিল্টার, এয়ার ফিল্টার, কনডেন্সার, এবং কম্প্রেসর সার্ভিসিং করুন।
  • বছরে অন্তত একবার এসির গ্যাস প্রেসার এবং ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম টেকনিশিয়ান দিয়ে চেক করান।
  • রিসার্কুলেশন মোড ব্যবহার করুন। এই মোড বাইরের গরম বাতাস ভেতরে না নিয়ে, ভেতরের বাতাসকেই বারবার রি-সাইকেল করে ঠান্ডা করে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
  • গাড়ি স্টার্ট দেবার কিছুক্ষণ পর এসি চালু করুন। এসি চালু করার আগে জানালা খুলে রাখুন।
  • মাসে অন্তত একবার এসির ড্রেনেজ সিস্টেম পরিষ্কার করুন। মাঝেমাঝে গ্যাস চেক এবং লিক টেস্ট করুন।
  • গাড়ি সবসময় ছায়া যুক্ত স্থানে পার্ক করুন, এতে এসির ওপর চাপ কম পড়ে।
  • পরিশেষে

    বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গাড়ির এসি শুধু বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে বছরের বেশিরভাগ সময়ে তাপমাত্রা ৩৫-৪০°সেলসিয়াস থাকে এবং আর্দ্রতা থাকে ৮০-৯০% এর কাছাকাছি। গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ যানজট এবং বায়ু দূষণে জানালা আটকালে কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ির ভেতরটা ভ্যাপসা গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতায় নিয়মিত ব্যবহারে গাড়ির এসি দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, এসি চলছে ঠিকই, কিন্তু গাড়ির ভিতরটা ঠান্ডা হচ্ছে না। সময়মতো ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধান করলে, এই সমস্যাগুলো সহজেই এড়িয়ে চলা সম্ভব, সাথে বড় ধরনের মেরামতের খরচ থেকেও রক্ষা পাবেন।

    সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

    ১. গরম আবহাওয়ায় গাড়ির এসি হঠাৎ কম ঠান্ডা হওয়ার প্রধান কারণ কী?

    রেফ্রিজারেন্ট বা এসি গ্যাস কমে যাওয়া, গ্যাস লিক, ডাস্ট ফিল্টার ব্লক হওয়া, এবং কনডেন্সার ত্রুটির কারণে গাড়ির এসি ভেন্ট দিয়ে পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস আসে না। ফিউজ, প্রেশার সুইচ, টেম্পারেচার সেন্সর, ওয়্যারিং, ইত্যাদিতে কোনো সমস্যা থাকলেও এসি সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করে না।

    ২. গাড়ির এসি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে কেন?

    অতিরিক্ত আর্দ্রতার প্রভাব কমাতে এসিকে বেশি এনার্জি খরচ করতে হয়। এতে ইভাপোরেটরে পানি জমে যায়। আর্দ্র আবহাওয়ায় এই পানিতে ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া জন্মে। ইভাপোরেটরে ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া জমলে এসি থেকে দুর্গন্ধ আসে।

    ৩. কম্প্রেসর দুর্বল হবার কারণ কী?

    নিয়মিত সার্ভিসিং না করা হলে, কম্প্রেসর দুর্বল হতে থাকে। এছাড়া কম্প্রেসর ওভারহিট হলে রেফ্রিজারেন্টকে সঠিকভাবে সঞ্চালন করতে পারে না। এতে গ্যাসের সঠিক চাপ তৈরি হয় না, তাই কেবিন ঠান্ডা হতে সময় লাগে।

    ৪. এসির ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে কোনো সমস্যা হলে কী সমস্যা হতে পারে?

    ফিউজ, প্রেশার সুইচ, টেম্পারেচার সেন্সর, ওয়্যারিং, ইত্যাদিতে কোনো সমস্যা থাকলে এসি সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করে না। রেডিয়েটর ফ্যানে ময়লা জমলে কনডেন্সার ঠান্ডা হতে পারে না। এছাড়া কুলিং ফ্যান এবং ব্লোয়ার মোটর দুর্বল হলে এসি থেকে ঠান্ডা বাতাস কম আসে।

    ৫. রিসার্কুলেশন মোড কী?

    প্রচণ্ড গরমে রিসার্কুলেশন মোড সবচেয়ে কার্যকর। এই মোড বাইরের গরম বাতাস ভেতরে না নিয়ে, ভেতরের বাতাসকেই বারবার রি-সাইকেল করে ঠান্ডা করে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

    অনুরূপ খবর

    • Maintenance & Care Tips

      মোটরসাইকেলের গিয়ার শিফটিং সমস্যাঃ কারণ ও সমাধান

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      শহরের যানজটে ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      আপনার গাড়ির শক অ্যাবজর্বার নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ইঞ্জিন ওয়ার্ম আপ না করলে কীভাবে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি ডেড হলে কী করবেন

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      যানবাহনের ইঞ্জিন মিসফায়ারিং এর লক্ষণগুলো কীভাবে শনাক্ত করবেন?

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ধুলোপ্রবণ শহরে নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকায় মরিচা ও ক্ষয় যেভাবে প্রতিহত করবেন

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশন: ৮০-১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশনের কারণ কী?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      নিজ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ওয়ার্কশপ কীভাবে বেছে নেবেন

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে

    সর্বশেষ গাড়ির রিভিউ

    • Suzuki Alto K10 2015

      Hatchback

      ৳ 800K - 1.2M

    • Toyota Aqua 2014

      Hatchback

      ৳ 1.5M - 1.6M

    • Suzuki Swift 2017

      Hatchback

      ৳ 1.7M - 2.2M

    • Toyota Vitz 2017

      Hatchback

      ৳ 1.8M - 2.3M

    • Nissan Leaf 2014

      Hatchback

      ৳ 1.6M - 2.2M

    • Mitsubishi Montero 2015

      SUV & 4X4

      ৳ 4.5M - 6M

    • Suzuki Wagon R 2018

      Hatchback

      ৳ 750K - 1.1M

    • Honda Civic 2019

      Saloon & Sedan

      ৳ 3.5M - 4.5M

    • Land Rover Defender 2020

      SUV & 4X4

      ৳ 14M - 18M

    • Mitsubishi Lancer 2017

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.5M - 3M

    • Toyota Axio 2016

      Saloon & Sedan

      ৳ 1.8M - 2.4M

    • Toyota Premio G Superior 2018

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.3M - 3M

    সর্বশেষ বাইকের রিভিউ

    • Hero Ignitor 125 2020 IBS

      ৳ 115.7K - 128.5K

    • Honda X-Blade 160 ABS

      ৳ 194.9K - 216.5K

    • Honda Livo 110 Drum

      ৳ 107.9K - 119.9K

    • Keeway TXM 150

      ৳ 161.1K - 179K

    • Suzuki Gixxer Monotone

      ৳ 182K - 192K

    • Suzuki Gixxer SF Matt Plus

      ৳ 315K - 350K

    • Yamaha R15 S

      ৳ 409.5K - 455K

    • Hero Hunk 150 R Dual Disc ABS

      ৳ 166.1K - 232K

    • TVS Apache RTR 165 RP

      ৳ 297K - 360K

    • Suzuki Intruder FI ABS

      ৳ 247.5K - 320K

    • Suzuki Bandit 150

      ৳ 288K - 320K

    • KTM RC 125

      ৳ 333K - 566K

    hero

    আপনার গাড়ি বা বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন মাত্র ২ মিনিটে পোস্ট করুন একদম ফ্রি!