দূষিত শহরে গাড়ির কেবিনের বাতাস পরিষ্কার রাখার উপায়

ব্যস্ত শহরে আমাদের বসবাস। এখানে বায়ু দূষণ একটি নিত্যদিনের বিষয়। ব্যস্ত ও দূষিত শহরে গাড়ির বাইরে যেমন দূষণ থাকে, তেমনি সেই দূষণ সহজেই গাড়ির কেবিনের ভেতরও ঢুকে পড়ে। প্রতিদিনের প্রয়োজনে যেহেতু গাড়ি ব্যবহার করতে হয়, তাই গাড়ির কেবিনকেও রাখতে হবে পরিষ্কার। ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। অনেকেই গাড়ির কেবিনের বাতাসের মানকে তেমন গুরুত্ব দেন না। নিয়মিত কেবিন এয়ার ফিল্টার বদলানো, সঠিক ভেন্টিলেশন ব্যবহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে গাড়ির ভেতরের বাতাস অনেকটাই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।
দূষিত শহরে গাড়ির কেবিনের বাতাস ভালো রাখার ১০ টি উপায়
১. কেবিন এয়ার ফিল্টার নিয়মিত বদলান
নোংরা কেবিন ফিল্টার ধুলো ও দূষণ আটকে রাখতে পারে না। সময়মতো ফিল্টার পরিবর্তন করলে গাড়ির ভেতর পরিষ্কার বাতাস চলাচল করে এবং শ্বাস নিতে আরাম পাওয়া যায়। তাই চেষ্টা করুন কেবিন ফিল্টার নিয়মিত বদলানোর।
২. যানজটে রিসার্কুলেশন মোড ব্যবহার করুন
ট্রাফিক জ্যামে বাইরের বাতাস অনেক দূষিত থাকে। তাই যখন আপনি যানজটে আটকে যাবেন, রিসার্কুলেশন মোড ব্যবহার করুন। এতে ক্ষতিকর গ্যাস ও ধোঁয়া কেবিনের ভেতর ঢুকতে পারবে না।
৩. এসি ভেন্ট ও ড্যাশবোর্ড পরিষ্কার রাখুন
ভেন্ট ও ড্যাশবোর্ডে প্রচুর ধুলো জমে থাকে। গাড়িতে এসি চালালে সেই ধুলো পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষতিকর ধুলো নিঃশ্বাসের মাধ্যমে আপনার ভেতর প্রবেশ করবে। তাই ভেন্ট ও ড্যাশবোর্ড নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
৪. গাড়ির ভেতর ধূমপান করবেন না
ধূমপান বরাবরই খারাপ অভ্যাস। তার উপর গাড়ির ভেতর ধূমপান করলে, সিগারেটের ধোঁয়া সিট ও ইন্টেরিয়রে লেগে থাকে। এটি কেবিনের বাতাস মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে এবং অনেকদিন পর্যন্ত কেবিনে দুর্গন্ধ থেকে যায়।
৫. দূষিত এলাকায় জানালা বন্ধ রাখুন
ব্যস্ত রাস্তায় বা ধুলাবালির জায়গায় জানালা খোলা রাখা উচিত নয়। জানালা খোলা রাখলে নোংরা বাতাস কেবিনে ঢুকে যায়। এসব এলাকায় জানালা বন্ধ রাখাই ভালো।
৬. এয়ার ফ্রেশনার সতর্কভাবে ব্যবহার করুন
অনেকেই তীব্র কেমিক্যালযুক্ত এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করেন। এই কেমিক্যালযুক্ত এয়ার ফ্রেশনার মাঝে মাঝে অস্বস্তির কারণ হয়। হালকা বা ন্যাচারাল এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করাই উত্তম।
৭. মাঝে মাঝে ফ্রেশ এয়ার মোড চালু করুন
পরিষ্কার এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য ফ্রেশ এয়ার মোড চালু করতে পারেন। এতে কেবিনের ভেতরে থাকা বাসি বাতাস ও আর্দ্রতা বের হয়ে যাবে।
৮. ফ্লোর ম্যাট ও সিট নিয়মিত পরিষ্কার করুন
গাড়ির ম্যাট ও সিটে প্রচুর ধুলো ও ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম করলে বা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার রাখলে কেবিনের ভেতর ভালো বাতাস থাকে।
৯. দুর্গন্ধ বা ছত্রাকের উপদ্রব হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
প্রায়শই দেখা যায় এসি থেকে বাজে গন্ধ হয়। ধুলো ময়লা কিংবা ছত্রাকের কারণেও এমন হয়। দ্রুত পরিষ্কার না করলে শ্বাসকষ্টসহ নানান স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়।
১০. অতি দূষিত জায়গায় গাড়ি পার্ক করা থেকে বিরত থাকুন
আবর্জনার স্থান বা খুব ট্রাফিকবহুল রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করবেন না। এতে আবর্জনার দুর্গন্ধ ও ব্যস্ত রাস্তার ধুলো গাড়ির কেবিনে ঢুকে যাবে। ফলে গাড়ির কেবিনের বাতাস ক্ষতিকর গ্যাসে ভরে যেতে পারে।
শেষ কথা
গাড়ির বাইরের বাতাস যেমন ভালো হওয়া জরুরি, ঠিক তেমনি গাড়ির কেবিনের বাতাসেরও হতে হবে স্বাস্থ্যকর। কিছু ভালো অভ্যাস যেমন নিয়মিত ফিল্টার বদল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা, গাড়ির ভেতরের বাতাসকে নিরাপদ ও আরামদায়ক রাখে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. কেবিন এয়ার ফিল্টার কতদিন পর বদলানো উচিত?
কেবিন এয়ার ফিল্টার প্রতি ১০,০০০-১৫,০০০ কিলোমিটার পর বদলানো উচিত। দূষিত শহরে যেহেতু আমাদের প্রতিদিনই গাড়ি ব্যবহার করতে হয়, তাই যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আরও আগেই বদলানো ভালো।
২. সবসময় রিসার্কুলেশন মোড ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
নিরাপদ, তবে তা স্বল্প সময়ের জন্য। দীর্ঘ সময় গাড়ি ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে ফ্রেশ এয়ার মোড চালানো প্রয়োজন।
৩. নোংরা এসি কি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?
হ্যাঁ। কিছু সময় পর পর এসিতে ধুলো, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জমা হয়। হঠাৎ এসি ছাড়লে এসব ময়লা পদার্থ ও গ্যাস কেবিনে ছড়িয়ে পড়ে। এই নোংরা এসি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর।
৪. এয়ার ফ্রেশনার কি সত্যিই বাতাস পরিষ্কার করে?
না। এয়ার ফ্রেশনার মূলত দুর্গন্ধ ঢাকে, তাও কিছুক্ষণের জন্য। আসল বাতাস পরিষ্কার হয় ফিল্টার ও ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে।
৫. জানালা বন্ধ রাখলে কি কেবিনের বাতাস ভালো থাকে?
হ্যাঁ, ভালো থাকে। জানালা বন্ধ রাখলে বাইরের ধুলো ও দূষিত পদার্থ কেবিনে ঢুকতে পারে না। এতে কেবিনের বাতাস ভালো থাকে।







































