ভারী বৃষ্টিতে কিভাবে হাইড্রোপ্ল্যানিং এড়ানো যায়?

Humaira Tasnim Adiba
time
4 মিনিটে পড়া যাবে
feature image

ভারী বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের পরিচিত রাস্তাই হুট করে অচেনা আর বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় রাস্তা দিয়ে পানি যে হারে সরে যাওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি দ্রুত পানি জমে যায়। তখন গাড়ির টায়ার রাস্তার শক্ত কামড় বা 'গ্রিপ' হারিয়ে ফেলে। এই অবস্থাকেই বলা হয় হাইড্রোপ্ল্যানিং। সহজ করে বললে, আপনার গাড়ির চাকা তখন রাস্তার পিচের ওপর নয়, বরং পানির একটা পাতলা স্তরের ওপর দিয়ে অনেকটা নৌকার মতো ভাসতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে স্টিয়ারিং, ব্রেক বা এক্সিলারেটর কোনোটাই ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। তাই হাইড্রোপ্ল্যানিং এড়ানোর জন্য এটি কেন হয় সেটা জানা আর বৃষ্টির সময় ড্রাইভিংয়ের কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি যেকোনো বড় বিপদ থেকে নিজেকে ও গাড়িকে রক্ষা করতে পারবেন।

হাইড্রোপ্ল্যানিং কেন ঘটে?

যখন বাইকের টায়ার আর রাস্তার মাঝখানে পানির একটা দেয়াল তৈরি হয়, তখনই সাধারণত হাইড্রোপ্ল্যানিং ঘটে। টায়ারের গায়ে যে খাঁজ থাকে, তার কাজই হলো চাকার নিচ থেকে পানি সরিয়ে দেওয়া যাতে চাকা রাস্তা আঁকড়ে ধরে চলতে পারে। কিন্তু পানি যখন টায়ারের ক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখনই চাকা রাস্তার সাথে যোগাযোগ হারিয়ে পানির ওপর পিছলে যেতে শুরু করে।

খেয়াল করবেন, আপনার গাড়ি যত দ্রুত চলবে, টায়ার পানি সরানোর জন্য তত কম সময় পাবে। আবার টায়ার যদি পুরোনো বা ক্ষয় হয়ে থাকে, তখন পানি সরানো হয়ে পড়ে আরও জটিল। তাই বৃষ্টির দিনে কেবল ভালো টায়ারে ভরসা রাখলেই হবে না, হাইড্রোপ্ল্যানিং এড়ানোর জন্য ড্রাইভ করার সময় গতির দিকেও নজর দিতে হবে।

টায়ারের যত্ন কেন এত জরুরি?

ভারী বৃষ্টিতে গাড়ি চালানোর সময় বা ভেজা রাস্তায় আপনার একমাত্র ভরসা হলো টায়ারের বিশেষ খাঁজগুলো। টায়ার যদি নতুন এবং উন্নত মানের হয়, তবে তা খুব সহজেই চাকার তলার পানি বের করে দিয়ে আপনাকে নিরাপদ রাখে। কিন্তু টায়ার ক্ষয়ে গেলে সেটি আর পানি সরাতে পারে না, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সেই সাথে টায়ারের প্রেশার ঠিক রাখাও খুব জরুরি। চাকাতে প্রেশার কম থাকলে তা রাস্তার সাথে ঠিকমতো বসতে পারে না, আবার বেশি প্রেশার থাকলেও রাস্তার সাথে ছোঁয়া বা কন্টাক্ট এরিয়া কমে যায়। এই দুটোই হাইড্রোপ্ল্যানিংয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই বৃষ্টির দিনে বের হওয়ার আগে নিয়মিত টায়ার চেক করা বুদ্ধিমানের কাজ।

রাস্তার অবস্থা বুঝে বাইক চালান

নিচু বা গর্ত যুক্ত রাস্তায় সাধারণত হাইড্রোপ্ল্যানিং বেশি হয়ে থাকে। কারণ এসকল রাস্তায় পানি বেশি জমে থাকে। তাছাড়া অল্প গভীরতার রাস্তায় দ্রুত গাড়ি চালালে, সেখানেও হাইড্রোপ্ল্যানিং হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনেকদিন রোদের পর বৃষ্টি নামলে রাস্তা সবচেয়ে বেশি পিচ্ছিল থাকে। রাস্তার ওপর জমে থাকা তেল আর ধুলোবালির সাথে বৃষ্টির পানি মিশে এক ধরনের পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি করে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখলে ভেজা রাস্তায় ড্রাইভিং এর ক্ষেত্রে আপনি বড় ঝুঁকি অনায়াসেই এড়াতে পারবেন।

হঠাৎ হাইড্রোপ্ল্যানিং হলে কী করবেন?

সবচেয়ে বড় সমাধান হলো ভারী বৃষ্টিতে গাড়ি চালানোর সময় গতি কমিয়ে রাখা। ধীরগতিতে চললে টায়ার পানি সরানোর জন্য বেশি সময় পায় এবং রাস্তার সাথে সংযোগ হারায় না। চেষ্টা করুন সামনের গাড়ির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার। কারণ পিচ্ছিল রাস্তায় হার্ড ব্রেক করলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই বাইকের স্টিয়ারিং খুব সাবধানে ধরুন এবং গতি বাড়ানোর সময় কোন তাড়াহুড়ো করবেন না। বাইকের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই হবে দুর্ঘটনা রোধে পূর্বপ্রস্তুতি।

চূড়ান্ত ভাবনা

প্রবল বৃষ্টির সময় হাইড্রোপ্ল্যানিং এড়ানো চালকদের জন্য এক আতঙ্কের বিষয়। এটি গাড়ির ওপর থেকে যেমন আপনার নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়, তেমনই রাখে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তবে ভয় না পেয়ে বাইকের টায়ার এবং গতি ঠিক রেখে নিরাপদে গাড়ি চালালে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. হাইড্রোপ্ল্যানিং কী?

চাকা যখন রাস্তার মাটি বা পিচ ছেড়ে দিয়ে পানির ওপর ভাসতে থাকে, সেটাই হাইড্রোপ্ল্যানিং।

২. ভেজা রাস্তায় কত গতিতে গাড়ি চালালে বিপদ হতে পারে?

সাধারণত ভেজা রাস্তায় ৫০-৬০ কিমি/ঘণ্টার বেশি স্পিড উঠলেই চাকা পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে।

৩. পুরোনো টায়ার কি ভেজা রাস্তায় বেশি বিপজ্জনক?

হ্যাঁ। ক্ষয়ে যাওয়া টায়ার পানি সরাতে পারে না, ফলে দ্রুত হাইড্রোপ্ল্যানিং ঘটে।

৪. চাকা পিছলে গেলে কি জোরে ব্রেক করা উচিত?

না। গতি বেশি থাকলে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধীরে ধীরে ব্রেক করা উচিত।

৫. হাইড্রোপ্ল্যানিং এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় কী?

নিয়মিত টায়ার চেক করুন এবং ধীরগতিতে ড্রাইভ করুন।

অনুরূপ খবর

  • Driving Tips

    ইঞ্জিনের ক্ষতি না করে জলাবদ্ধ রাস্তা নিরাপদে কীভাবে পার হবেন?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    ভারী বৃষ্টিতে কিভাবে হাইড্রোপ্ল্যানিং এড়ানো যায়?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    সেরা রাইডিং পজিশন দৈনন্দিন দীর্ঘ যাত্রার জন্য

    time
    5 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    ভারী বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল চালানোঃ প্রতিটি রাইডারের যেই নিরাপত্তা কৌশলগুলো জানা উচিত

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    স্পিড ব্রেকারে গাড়ির নিচের অংশ কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    ভেজা পিচঢালা রাস্তায় নিরাপদে মোটরসাইকেল ব্রেকিং কৌশল

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    পিলিয়ন রাইডিং সেফটি: সাধারণ যে ভুলগুলো চালকরা প্রায়ই করেন

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    রাতে গাড়ি চালানোর সময় কীভাবে ভিজিবিলিটি বাড়ানো যায়?

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    মোটরসাইকেল টায়ার গ্রিপঃ যেভাবে ধুলোময় রোডে নিরাপদে রাইড করবেন

    time
    3 মিনিটে পড়া যাবে
  • Driving Tips

    বাস, ট্রাক এবং রিকশার পাশে নিরাপদে গাড়ি চালানোর নিয়ম

    time
    4 মিনিটে পড়া যাবে

সর্বশেষ গাড়ির রিভিউ

  • Suzuki Alto K10 2015

    Hatchback

    ৳ 800K - 1.2M

  • Toyota Aqua 2014

    Hatchback

    ৳ 1.5M - 1.6M

  • Suzuki Swift 2017

    Hatchback

    ৳ 1.7M - 2.2M

  • Toyota Vitz 2017

    Hatchback

    ৳ 1.8M - 2.3M

  • Nissan Leaf 2014

    Hatchback

    ৳ 1.6M - 2.2M

  • Mitsubishi Montero 2015

    SUV & 4X4

    ৳ 4.5M - 6M

  • Suzuki Wagon R 2018

    Hatchback

    ৳ 750K - 1.1M

  • Honda Civic 2019

    Saloon & Sedan

    ৳ 3.5M - 4.5M

  • Land Rover Defender 2020

    SUV & 4X4

    ৳ 14M - 18M

  • Mitsubishi Lancer 2017

    Saloon & Sedan

    ৳ 2.5M - 3M

  • Toyota Axio 2016

    Saloon & Sedan

    ৳ 1.8M - 2.4M

  • Toyota Premio G Superior 2018

    Saloon & Sedan

    ৳ 2.3M - 3M

সর্বশেষ বাইকের রিভিউ

  • Hero Ignitor 125 2020 IBS

    ৳ 115.7K - 128.5K

  • Honda X-Blade 160 ABS

    ৳ 194.9K - 216.5K

  • Honda Livo 110 Drum

    ৳ 107.9K - 119.9K

  • Keeway TXM 150

    ৳ 161.1K - 179K

  • Suzuki Gixxer Monotone

    ৳ 206K - 210K

  • Suzuki Gixxer SF Matt Plus

    ৳ 315K - 350K

  • Yamaha R15 S

    ৳ 409.5K - 455K

  • Hero Hunk 150 R Dual Disc ABS

    ৳ 166.1K - 232K

  • TVS Apache RTR 165 RP

    ৳ 297K - 360K

  • Suzuki Intruder FI ABS

    ৳ 247.5K - 320K

  • Suzuki Bandit 150

    ৳ 288K - 320K

  • KTM RC 125

    ৳ 333K - 566K

hero

আপনার গাড়ি বা বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন মাত্র ২ মিনিটে পোস্ট করুন একদম ফ্রি!