পাঁচ বছর ব্যবহারের পরেও যেভাবে আপনার গাড়ির রিসেল ভ্যালু ধরে রাখবেন

বাংলাদেশে গড় আয়ের তুলনায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এখানে একটি যানবাহন কেনা একটি বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আপনি গাড়ি ব্যবহার করুন অথবা বাইক, এটির রিসেল ভ্যালু ধরে রাখা আপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত। ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা একটি গাড়ি বা বাইক থেকে পাঁচ বছর পরেও ভালো দাম পাওয়া যায়। আর এই লেখায় আমরা জানাবো কীভাবে আপনি সেটি নিশ্চিত করতে পারেন।
রেগুলার মেইনটেনেন্স শিডিউল মেনে চলুন
যানবাহনের রিসেল ভ্যালুতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এর রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস। তাই প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত রেগুলার মেইনটেনেন্স শিডিউল মেনে চলুন। নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, ব্রেক সার্ভিসিং, ফিল্টার বদলানো এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সময়মতো মেরামত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্পমেয়াদে খরচ বাঁচাতে সার্ভিস এড়িয়ে গেলে ভবিষ্যতে বিক্রির সময় বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
সম্পূর্ণ সার্ভিস রেকর্ড সংরক্ষণ করুন
সার্ভিস বিল ও মেরামতের কাগজপত্র সংরক্ষণ করলে ক্রেতার আস্থা অনেক বেড়ে যায়। অনুমোদিত ওয়ার্কশপ থেকে নিয়মিত সার্ভিস করানোর কাগজপত্র রাখলে তা স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে। বাংলাদেশের ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে সঠিক কাগজপত্র থাকা যানবাহন সাধারণত দ্রুত বিক্রি হয় এবং ভালো দাম পায়।
গাড়ির এক্সটেরিয়রের যত্ন নিন
যানবাহনের এক্সটেরিয়রের অবস্থা ফার্স্ট ইমপ্রেশন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ধোয়া, পলিশ ও ওয়্যাক্স করলে রং ধুলোবালি, রোদ ও বৃষ্টির হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় যত্ন না নিলে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় স্ক্র্যাচ ও ডেন্ট এড়িয়ে চলুন এবং ছোটখাটো ক্ষতি দ্রুত ঠিক করুন।
গাড়ির ইন্টেরিয়র পরিষ্কার রাখুন
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ইন্টেরিয়র গাড়ির রিসেল ভ্যালু বাড়ায়। সিট কভার ব্যবহার করুন, ড্যাশবোর্ড পরিষ্কার রাখুন এবং গাড়ির ভেতরে ধূমপান এড়িয়ে চলুন। বাংলাদেশী ক্রেতারা ভালো কুলিং পারফরম্যান্স সম্পন্ন গাড়ি পছন্দ করেন। তাই এসি সিস্টেম ঠিক রাখা জরুরি। এছাড়া মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সিট ও সুইচগুলোর অবস্থা ভালো রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অপ্রয়োজনীয় মোডিফিকেশন এড়িয়ে চলুন
অনেকে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী গাড়ি বা বাইকে পরিবর্তন আনেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্রেতাই স্টক কন্ডিশনের যানবাহন পছন্দ করেন। তাই অতিরিক্ত মোডিফিকেশন গাড়ির রিসেল ভ্যালু কমিয়ে দিতে পারে। উচ্চ শব্দের এক্সহস্ট, বডি কিট বা অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক পরিবর্তন শুরুতে আকর্ষণীয় মনে হলেও ভবিষ্যতে বিক্রির সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সম্ভব হলে যানবাহনকে অরিজিনাল কন্ডিশনের কাছাকাছি রাখুন।
মাইলেজ নিয়ন্ত্রণ করুন
ক্রেতারা গাড়ির যেসব বিষয় আগে খেয়াল করেন তার মধ্যে মাইলেজ অন্যতম। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় লং-ড্রাইভ ও রাফ ড্রাইভিং গাড়ির বিভিন্ন পার্টসের ক্ষয় বৃদ্ধি করে। ঢাকা শহরের মতো জায়গায় ট্রাফিক জ্যাম নিজেই পারফরম্যান্সে বিশাল প্রভাব ফেলে। তাই পরিমিত ব্যবহার ও নিয়মিত সার্ভিসিং দীর্ঘমেয়াদে ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সাহায্য করে।
পরিসংহার
পাঁচ বছর পরেও যানবাহনের ভালো রিসেল ভ্যালু পেতে হলে নিয়মিত যত্ন ও স্মার্ট সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক কাগজপত্র সংরক্ষণ, সাবধানে ড্রাইভ করা এবং এক্সটেরিয়র ও ইন্টেরিয়রের অবস্থা ঠিক রাখা বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবহৃত যানবাহনের বাজারে ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যানবাহন সবসময়ই বেশি ক্রেতা ও ভালো দাম পায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. নিয়মিত সার্ভিসিং কি গাড়ির রিসেল ভ্যালু বাড়ায়?
হ্যাঁ। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের প্রমাণ থাকলে ক্রেতারা বেশি আস্থা পান এবং ভালো দাম দিতে আগ্রহী হন।
২. ছোটখাটো স্ক্র্যাচ কি বিক্রির দামে প্রভাব ফেলে?
হ্যাঁ। ছোট ডেন্ট বা স্ক্র্যাচও ক্রেতার আগ্রহ কমাতে পারে এবং দর কষাকষির সুযোগ বাড়ায়।
৩. মডিফাই করা যানবাহন কি বিক্রি করা কঠিন?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, হ্যাঁ। অনেক ক্রেতাই অরিজিনাল কন্ডিশনের যানবাহন পছন্দ করেন।
৪. কম মাইলেজ কি সবসময় ভালো?
সাধারণত হ্যাঁ। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৫. বিক্রির আগে কি গাড়ির ছোটখাটো সমস্যা ঠিক করা উচিত?
হ্যাঁ। ছোটখাটো সমস্যা আগে ঠিক করলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

































