ঢাকার স্টপ-অ্যান্ড-গো ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়

যানজট ঢাকা সিটিতে অসহনীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার এই স্টপ-অ্যান্ড-গো ট্রাফিক পরিস্থিতিতে, গাড়ির ব্যাটারি প্রায়শই খারাপ হয়ে যায় কারণ সেগুলো রিচার্জ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না।। কারণ যানজটে গাড়ি দীর্ঘক্ষণ চালু অবস্থায় স্থির থাকলে কিংবা কিছুক্ষণ পরপর স্টার্ট-স্টপ করলে, ব্যাটারি চার্জ হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় না। নিয়মিত এরকম পরিস্থিতিতে ড্রাইভ করা হলে, গাড়ির ব্যাটারির স্থায়িত্ব এবং পারফরম্যান্স কমে যায়। এটি চার্জিং সিস্টেম এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক কম্পোনেন্টগুলোয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ব্যাটারি একটি গাড়ির এসি, লাইটিং সিস্টেম, ইনডিকেটর, অডিও সিস্টেম, সেন্সর, মোবাইল চার্জিং, হর্ন, ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম, ইঞ্জিন স্টার্ট, ইত্যাদি কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, এমনকি ইঞ্জিন বন্ধ থাকলেও। অবিরাম স্টপ-অ্যান্ড-গো ট্রাফিক যেকোনো মোটরযানের ব্যাটারির জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে, ঢাকার স্টপ-অ্যান্ড-গো ট্রাফিকের মধ্যেও আপনি আপনার গাড়ির ব্যাটারির হেলথ ভালো রাখতে পারবেন। এই গাইডে ঢাকার স্টপ-অ্যান্ড-গো ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ঢাকার যানজটে থেমে থেমে চলার সময় ব্যাটারির যত্ন নেবেন যেভাবে
১. ট্র্যাফিকে বিদ্যুৎ লোড কমান
ট্র্যাফিকে ইঞ্জিনের আরপিএম কম থাকে, তাই অল্টারনেটর ব্যাটারিকে ধীরে ধীরে চার্জ করে। ব্যাটারি থেকে গাড়ির সকল ইলেক্ট্রিক্যাল সিস্টেমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এই সময়ে এসি ফুল স্পিডে থাকলে, সকল লাইটিং সিস্টেম অন থাকলে, এবং রেডিও বা মিউজিক সিস্টেম চালু থাকলে, ব্যাটারি দ্রুত ডিসচার্জ হতে থাকে। তাই ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এসি এবং অন্যান্য ইলেক্ট্রিক্যাল সিস্টেম কম ব্যবহার করুন।
২. ঘন ঘন ইঞ্জিন স্টার্ট-অফ করবেন না
গাড়ি বা মোটরবাইক স্টার্ট নিতে ব্যাটারি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাই অল্প সময়ের ট্রাফিক সিগন্যালে এবং জ্বালানি বাঁচাতে ঘন ঘন ইঞ্জিন স্টার্ট-অফ করবেন না। স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণে এবং অল্প সময়ের সিগনালে ইঞ্জিন অফ না করাই ভালো।
৩. অল্টারনেটর ভোল্টেজ চেক করুন
অল্টারনেটর ব্যাটারিকে চার্জ করে। অল্টারনেটর বেল্ট বা টেনশনার সময়ের সাথে ক্ষয় হতে থাকে, তাই বেল্টের অবস্থা এবং অল্টারনেটরের আউটপুট নিয়মিত পরীক্ষা করুন। অল্টারনেটর সঠিক ভোল্টেজে চার্জ দিচ্ছে কি না চেক করুন। মাসে একবার মাল্টিমিটার দিয়ে ব্যাটারির ভোল্টেজ চেক করুন।
৪. নিয়মিত ব্যাটারি টার্মিনাল পরিষ্কার করুন
ঢাকার গরম তাপমাত্রা, এবং রাস্তার ধুলোবালি ব্যাটারির টার্মিনালে ময়লার স্তর তৈরী করে। এই স্তর বা করোশন বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা দেয়। মাসে ২/১ বার ব্যাটারি টার্মিনাল পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার করার পর গ্রিজ লাগাবেন, এতে মরিচ পড়বে না।
৫. সপ্তাহে অন্তত একদিন লং-ড্রাইভ করুন
ঢাকা শহরে স্কুল, অফিস এবং অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াতে স্বল্প দূরত্বে ভ্রমণ করা লাগে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গন্তব্য কাছাকাছি হয়ে থাকে। তাই ট্রাফিক জ্যাম এবং স্বল্প সময়ের ড্রাইভিং-এ ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হওয়ার সুযোগই পায় না। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন হাইওয়েতে লং-ড্রাইভ করুন। এতে ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হবে।
৬. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিন
গাড়ি স্টার্ট হতে দেরি হলে, লাইটিং সিস্টেম ম্লান হয়ে গেলে, ড্যাশবোর্ডে ওয়ার্নিং সিগন্যাল দিলে, দ্রুত ব্যাটারি চেক করুন। প্রয়োজনে সার্ভিসিং সেন্টারে দেখান। ঢাকার ট্র্যাফিকে নিয়মিত গাড়ি চালালে একটি ব্যাটারি ১.৫-২ বছরের মধ্যে রিপ্লেস করার প্রয়োজন হতে পারে। যদিও একটি ব্যাটারি ভালো পরিবেশে ৩ বছরের বেশি সার্ভিস দিতে পারে। প্রয়োজনে ভালোমানের ব্যাটারি চার্জার ব্যবহার করুন।
ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে গাড়ির ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করার আরও কিছু টিপস
পরিশেষে
গাড়ির স্থায়িত্ব এবং পারফরম্যান্স ঠিক রাখার জন্য ব্যাটারির হেলথ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার যানজটে ব্যাটারির যত্ন নেওয়া আপনার মোটরযানের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য জরুরি। দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন আইডল অবস্থায় থাকা, ইঞ্জিন ঘন ঘন স্টার্ট করা, এবং গাড়ি স্থির অবস্থায় এসি সচল রাখার ফলে গাড়ির ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। ট্রাফিকের কারণে গাড়ি ঘন ঘন স্টার্ট-স্টপ করা হলে অল্টারনেটর ব্যাটারিকে ভালোভাবে চার্জ করার সময় পায় না। তাই ঢাকার ট্র্যাফিকে নিয়মিত গাড়ি ড্রাইভ করলে ব্যাটারি প্রত্যাশিত সময়ের আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ঢাকার গরম আবহাওয়া এবং ধুলোবালি ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়। ঢাকার ট্রাফিক যতই চ্যালেঞ্জিং হোক, সচেতন ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণই ব্যাটারিকে দীর্ঘসময় ভালো রাখবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. ঢাকার ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি কেন দ্রুত নষ্ট হতে পারে?
যানজটে গাড়ি দীর্ঘক্ষণ চালু অবস্থায় স্থির থাকলে কিংবা কিছুক্ষণ পরপর স্টার্ট-স্টপ করলে, ব্যাটারি চার্জ হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় না। নিয়মিত এরকম পরিস্থিতিতে ড্রাইভ করা হলে, গাড়ির ব্যাটারির স্থায়িত্ব এবং পারফরম্যান্স কমে যায়।
২. ব্যাটারি মোটরযানে কী ধরণের সাপোর্ট দিয়ে থাকে?
ব্যাটারি একটি গাড়ির এসি, লাইটিং সিস্টেম, ইনডিকেটর, অডিও সিস্টেম, সেন্সর, মোবাইল চার্জিং, হর্ন, ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম, ইঞ্জিন স্টার্ট, ইত্যাদি কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, এমনকি ইঞ্জিন বন্ধ থাকলেও।
৩. কীভাবে বুঝবেন ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেছে?
গাড়ি স্টার্ট হতে দেরি হলে, লাইটিং সিস্টেম ম্লান হয়ে গেলে, ড্যাশবোর্ডে ওয়ার্নিং সিগন্যাল দিলে, দ্রুত ব্যাটারি চেক করুন।
৪. জ্যামে থাকা অবস্থায় এসি এবং অন্যান্য ইলেক্ট্রিক্যাল সিস্টেম কী দ্রুত ব্যাটারি ক্ষয় করে?
এই সময়ে এসি ফুল স্পিডে থাকলে, সকল লাইটিং সিস্টেম অন থাকলে, এবং রেডিও বা মিউজিক সিস্টেম চালু থাকলে, ব্যাটারি দ্রুত ডিসচার্জ হতে থাকে। কারণ এই সময়ে অল্টারনেটর ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ করতে পারে না।
৫. ঢাকা সিটিতে গাড়ির ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করা কীভাবে সম্ভব?
ঢাকা শহরে ট্রাফিক জ্যাম এবং স্বল্প সময়ের ড্রাইভিং-এ ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হওয়ার সুযোগই পায় না। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন হাইওয়েতে লং-ড্রাইভ করুন। এতে ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হবে।







































