টায়ার বদলের পর কীভাবে সঠিক হুইল ব্যালেন্স বজায় রাখবেন?

অনেক বাইকারই নতুন টায়ার লাগানোর পর হুইল ব্যালেন্সের বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অথচ হুইল ব্যালেন্স ঠিক না থাকলে নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। যেমনঃ বাইক কাঁপা, চালাতে অস্বস্তি হওয়া, টায়ার দ্রুত নষ্ট হওয়া ইত্যাদি। সঠিক হুইল ব্যালেন্স যানবাহনকে স্থির রাখে। তাছাড়া এটি বাইকের নিয়ন্ত্রণকেও সহজ করে ও দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমায়। কিছু কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে টায়ার বদলের পরও হুইল ব্যালেন্স ঠিক রাখা খুব একটা কঠিন কাজ নয়।
সঠিক হুইল ব্যালেন্স বজায় রাখার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
১. টায়ার বদলের পর অবশ্যই হুইল ব্যালেন্স করুন
নতুন টায়ার দেখতে ভালো লাগলেও, বুঝতে হবে এর ব্যালেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেয়া থাকে না। টায়ার লাগানোর পর ব্যালেন্স করলে শুরু থেকেই কাঁপুনি এড়ানো যায়।
২. অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত ওয়ার্কশপ বেছে নিন
সঠিক হুইল ব্যালেন্সের জন্য ভালো মেশিন ও দক্ষ মেকানিক খুব জরুরি। টাকা বাঁচাতে গিয়ে অনভিজ্ঞ হাতে ব্যালেন্স করাতে যাবেন না। এতে সমস্যা কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে।
৩. বিভিন্ন গতিতে চালিয়ে বাইকের কাঁপুনি চেক করুন
বাইক চালানোর সময় কম বা বেশি গতিতে চালিয়ে বাইকের ভাইব্রেশন অনুভব করুন। যদি ভাইব্রেশন অনুভূত হয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যালেন্সে সমস্যা হচ্ছে। শুরুতেই যদি ধরতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি থেকে বেঁচে যাবেন।
৪. হুইল ওয়েট ঠিক আছে কিনা দেখুন
খারাপ রাস্তা কিংবা গর্তে বাইক চালালে অনেক সময় হুইল ওয়েট খুলে পড়ে যায়। এই ওয়েট না থাকলে হুইল ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায়। এতে আরামদায়কভাবে বাইক চালানো যায় না।
৫. টায়ারের বাতাস সঠিক মাত্রায় রাখুন
টায়ারের বাতাস যদি কম বা বেশি হয়, তাহলে শুধু ব্যালেন্স নয়, বাইকের পুরো কন্ট্রোলিং-ই নষ্ট হয়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর টায়ার প্রেশার পরীক্ষা করা খুবই জরুরি।
৬. গর্ত ও কার্ব-এ ধাক্কা এড়িয়ে চলুন
জোরে গর্তে বাইক পড়ে গেলে কিংবা ফুটপাতের কার্বে ধাক্কা লাগলে হুইলের ব্যালেন্স দ্রুতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে শুরু টায়ার নয়, রিমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৭. নির্দিষ্ট সময় পর পর টায়ার রোটেশন করুন
টায়ার অনেকদিন ভালো রাখার জন্য টায়ার রোটেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টায়ার রোটেশন করলে সব টায়ারে সমানভাবে ক্ষয় হয়। এতে নির্দিষ্ট একটি টায়ারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। সেই সাথে হুইল ব্যালেন্সও দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
৮. ব্যালেন্স করার সময় রিম পরীক্ষা করুন
বাঁকা বা ক্ষতিগ্রস্ত রিমে কখনোই সঠিক হুইল ব্যালেন্স রাখা সম্ভব হয় না। তাই ব্যালেন্স করার আগে রিম ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নেওয়া বেশ জরুরি।
৯. স্টিয়ারিং ঢিলা লাগলে বা অস্থির লাগলে পুনরায় ব্যালেন্স করুন
চালানোর সময় যদি স্টিয়ারিং ঢিলা মনে হয় কিংবা বাইক ঠিকভাবে সোজা না চলে, আঁকাবাঁকা চলতে থাকে, তাহলে দেরি করবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হুইল ব্যালেন্স করুন। না হলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
১০. নিয়মিত সার্ভিসের অংশ হিসেবে হুইল ব্যালেন্স করুন
হুইল ব্যালেন্স একবার করেই কাজ শেষ, এমন মনে করা যাবে না। নিয়মিত সার্ভিসের সময় এটি পরীক্ষা করতে হবে। তাহলে বাইক রাইডও সবসময় মসৃণ, নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।
শেষ কথা
টায়ার বদলের পর হুইল ব্যালেন্স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কারণ, এই হুইল ব্যালেন্স নিরাপদ ও আরামদায়ক রাইডের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনা অবলম্বন ও সময়মতো যত্ন নিলে টায়ার দীর্ঘদিন ভালো থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ ও ঝামেলা থেকে বাঁচা যাবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. টায়ার বদলের পর হুইল ব্যালেন্স করা কি জরুরি?
হ্যাঁ। নতুন টায়ারেও হুইল ব্যালেন্স সমস্যা হতে পারে। ব্যালেন্স না করলে কাঁপুনি ও ক্ষয় দেখা দিতে পারে।
২. হুইল ব্যালেন্স যদি ঠিক না থাকে তাহলে কি ধরণের সমস্যা হয়?
হুইল ব্যালেন্স ঠিক না থাকলে স্টিয়ারিং ভাইব্রেট, টায়ার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং বাইকের নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে না। এতে বাইক চালাতেও অস্বস্তি লাগে।
৩. কতদিন পর হুইল ব্যালেন্স পরীক্ষা করা উচিত?
হুইল ব্যালেন্স পরীক্ষা করবেন তখনই যখন দেখবেন টায়ার বদলের পর কিংবা বাইক চালানোর সময় কাঁপুনি অনুভব হচ্ছে। এর মানে বোঝা যায় ব্যালেন্সে কোনো সমস্যা আছে।
৪. খারাপ রাস্তায় বাইক চালালে কি তা হুইল ব্যালেন্স নষ্ট করে?
হ্যাঁ। ভাঙা রাস্তা, গর্ত, স্পিড ব্রেকার কিংবা উঁচু-নিচু রাস্তা এগুলো হুইল ব্যালেন্স-কে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে পরিবর্তন করে দেয়। যেকারণে হুইল ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায়।
৫. হুইল ব্যালেন্স কি মাইলেজে প্রভাব ফেলে?
হ্যাঁ, প্রভাব ফেলে। মূলত সঠিক ব্যালেন্স থাকলে বাইক অনেক মসৃণভাবে চলে এবং এই কারণে জ্বালানি খরচও কিছুটা কমে।







































