স্পিড ব্রেকারে গাড়ির নিচের অংশ কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?

শহর কিংবা মহাসড়কের রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পিড ব্রেকার খুবই সাধারণ। তবে অনেক সময় দেখা যায় গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ করে স্পিড ব্রেকার চলে আসে অথবা অসম কিছু স্পিড ব্রেকার থাকে, যেগুলো গাড়ির নিচের অংশে আঘাত করতে পারে। এতে করে গাড়ির এক্সহস্ট সিস্টেম, সাসপেনশন বা প্রোটিক্টিভ শিল্ড বাজে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বার বার ঘষা লাগলে ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল মেরামতের দরকার হতে পারে। সঠিক কৌশল জেনে স্পিড ব্রেকার অতিক্রম করলে গাড়ির আন্ডারকারেজ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
স্পিড ব্রেকার থেকে গাড়ির নিচের অংশ রক্ষা করার কার্যকর উপায়
১. আগেই গতি কমান
স্পিড ব্রেকারের কাছে পৌঁছানোর আগেই ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে ফেলুন। হঠাৎ ব্রেক করলে গাড়ির সামনের অংশ নিচু হয়ে যায় এবং সাসপেনশনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে আন্ডারকারেজে আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মনে রাখতে হবে, নিয়ন্ত্রিত ও ধীর গতি নিরাপদ পারাপারের মূল চাবিকাঠি।
২. নিরাপত্তার জন্য সামান্য কোণে করে অতিক্রম করুন
রাস্তা ফাঁকা ও ট্রাফিক না থাকলে হালকা তির্যকভাবে স্পিড ব্রেকার পার হওয়া যায়। এতে গাড়ির চারটি চাকা একবারে উঁচুতে না উঠে পর্যায়ক্রমে উঠে। এতে করে গাড়ির মাঝের নিচের অংশে সরাসরি চাপ কম পড়ে।
৩. স্পিড ব্রেকারের উপর ব্রেক চাপবেন না
যখন আপনার গাড়ি স্পিড ব্রেকারের উপরে আছে, তখন কোনোভাবেই ব্রেক চাপবেন না। কারণ ঐ অবস্থায় ব্রেক চাপলে সামনের সাসপেনশন সংকুচিত হয়ে যায় এবং সামনের আন্ডারবডি মাটির আরও কাছে চলে আসে। এতে ঘষা লাগার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই স্পিড ব্রেকারে উঠার আগেই ব্রেক ছেড়ে আস্তে আস্তে এগোন।
৪. অতিক্রমের সময় গতি বাড়াবেন না
যখন আপনি স্পিড ব্রেকার অতিক্রম করছেন, তখন গতি বাড়িয়ে দিবেন না। এ সময় অ্যাক্সেলেটর চাপলে গাড়ির ওজন হঠাৎ পিছনের দিকে সরে যায়। এতে পিছনের আন্ডারকারেজে আঘাত লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সমান ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি অতিক্রম করুন।
৫. সঠিক টায়ার প্রেশার বজায় রাখুন
কম টায়ার প্রেশার গাড়ির উচ্চতাকে সামান্য কমিয়ে দেয়। এতে সাসপেনশনের কার্যকারিতা কমে যায়। টায়ারের সঠিক প্রেশার বজায় রাখলে গাড়িতে নির্ধারিত গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ঠিক থাকে এবং ঝাঁকুনি কম হয়।
৬. সাসপেনশন নিয়মিত পরীক্ষা করুন
আগেই ক্ষতি হয়েছে এমন কিংবা পুরনো শক অ্যাবজর্বার ও স্প্রিং গাড়িকে নিচু করে ফেলে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘষা লাগে। নিয়মিত সার্ভিসিং করলে সাসপেনশনের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।
৭. অতিরিক্ত ওজন বহন এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত যাত্রী বা ভারী মালামাল গাড়ির সাসপেনশনে চাপ সৃষ্টি করে। এতে গাড়ির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স কমে যায়। ফলে স্পিড ব্রেকারে নিচের অংশে আঘাত লাগার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
৮. আন্ডারবডি গার্ড ব্যবহার করুন
যেহেতু বাংলাদেশের অনেক রাস্তা আছে যেগুলো ভাঙাচোরা কিংবা অসমান, এসব রাস্তায় নিয়মিত গাড়ি চলাচলের জন্য আন্ডারবডি গার্ড ব্যবহার করা যায়। এটি ইঞ্জিন, অয়েল প্যান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশকে সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা করে।
৯. লোয়ার্ড বা পরিবর্তিত গাড়ির ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকুন
সাসপেনশন কমানো বা মোডিফাইড গাড়িতে গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। তাই এসব গাড়িতে স্পিড ব্রেকার অতিক্রমের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
১০. অচিহ্নিত স্পিড ব্রেকারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তার বেশ কিছু স্পিড ব্রেকার স্পষ্টভাবে রঙ করা বা চিহ্নিত করা থাকে না। বিশেষ করে রাতে বা অচেনা কোনো এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার দিকে মনোযোগী থাকবেন। সামনে কি আছে তা আগেই লক্ষ্য করুন।
শেষ কথা
স্পিড ব্রেকার রাস্তার অংশ, এটি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে স্পিড ব্রেকার অতিক্রম করলে অনেক বড় ক্ষতি থেকে বাঁচা সম্ভব। ধীর গতি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতন ড্রাইভিং আপনার গাড়ির আন্ডারকারেজকে দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. কেনো স্পিড ব্রেকার আমার গাড়ির নিচে ঘষা লাগে?
কম গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, দুর্বল সাসপেনশন কিংবা অতিরিক্ত গতি যেকোনো কারণেই স্পিড ব্রেকারে গাড়ির আন্ডারকারেজে ঘষা লাগতে পারে।
২. গাড়ি কোণ বা তির্যকভাবে পার হওয়া ভালো?
হ্যাঁ, অবশ্যই। যদি রাস্তা নিরাপদ থাকে ও কোনো ট্রাফিক না থাকে তাহলে তির্যকভাবে পার হওয়া যায়। এটি সরাসরি আঘাত এড়াতে কিছুটা সাহায্য করে।
৩. স্পিড ব্রেকার কি এক্সহস্ট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে?
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই পারে। বারবার আঘাত এক্সহস্ট পাইপ, সাইলেন্সার বা মাউন্টিং ঢিলা করে দিতে পারে।
৪. টায়ার প্রেশার কি প্রভাব ফেলে?
হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে ফেলে। কম টায়ার প্রেশার গাড়ির উচ্চতাকে কমিয়ে দেয়। এতে আন্ডারবডির ঘষা লাগার ঝুঁকি বাড়ে।
৫. আন্ডারবডি গার্ড লাগানো কতটা দরকার?
আন্ডারবডি গার্ড মূলত আন্ডারবডির সুরক্ষার জন্য দেওয়া হয়। ভাঙাচোরা রাস্তায় নিয়মিত চালানোর ক্ষেত্রে আন্ডারবডি গার্ড ব্যবহার করা উত্তম।







































