ট্রাফিকে মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাধারণ কারণ ও সমাধান

ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ বাইক বন্ধ হয়ে গেলে রাইডাররা স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। ঠিকঠাক চলতে থাকা বাইক যেন হঠাৎ করেই থেমে যায়, এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। শুরুতে বিষয়টাকে বেশিরভাগ রাইডার তেমন একটা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বারবার একই সমস্যা হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেশিরভাগ সময় মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে থাকে ছোটখাটো কিছু কারণ, যেগুলো খুব সহজেই সমাধান করা যায়।
লো আইডল আরপিএম আর ক্লাচ কন্ট্রোলের সমস্যা
ট্রাফিকের ভেতর বাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে কমন কারণ হলো আইডল আরপিএম কম থাকা। ধীর গতিতে চলার সময় ক্লাচ আর থ্রটল একসাথে ব্যবহার করতে হয় অনেকবার। আইডল আরপিএম যদি কম সেট করা থাকে তাহলে ইঞ্জিন পর্যাপ্ত রেভ পায় না, এতে করে বাইক হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এর সমাধান খুবই সহজ। ম্যানুফ্যাকচারারের নির্দেশনা অনুযায়ী আইডল আরপিএম ঠিক করে নিন এবং ক্লাচটা ধীরে ছাড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হঠাৎ করে ক্লাচ ছেড়ে দেওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করুন।
ফুয়েল সাপ্লাই ও ফুয়েল কোয়ালিটির সমস্যা
ফুয়েল ঠিকভাবে না সাপ্লাই হলে বাইক স্টল করতে পারে। লো কোয়ালিটির ফুয়েল, ফুয়েলের সাথে পানির মিশ্রণ বা বন্ধ হয়ে থাকা ফুয়েল ফিল্টারের কারণে এই সমস্যাটা হয়ে থাকে। কম আরপিএমে চলার সময় এই সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। কার্বুরেটরযুক্ত বাইকগুলো এই ক্ষেত্রে বেশি সেনসিটিভ। নির্ভরযোগ্য ফিলিং স্টেশন থেকে ফুয়েল নেওয়া আর সময়মতো কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেক্টর পরিষ্কার করলে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
ধীরগতির ট্রাফিকে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া
লম্বা সময়ের ট্রাফিক জ্যামে ইঞ্জিন ঠান্ডা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাতাস পায় না। ফলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে গিয়ে একপর্যায়ে ইঞ্জিন স্টল করে। এয়ার-কুলড বাইকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ইঞ্জিন অয়েল কম থাকলে বা অনেকদিন ইঞ্জিন অয়েলের পরিবর্তন না করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়। সঠিক গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা, অয়েলের লেভেল ঠিক রাখা এবং দীর্ঘক্ষণ ক্লাচ চেপে না রাখলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ইলেকট্রিক্যাল ও ব্যাটারি সংক্রান্ত সমস্যা
ব্যাটারি দুর্বল হয়ে পড়লে বা তারের সংযোগ ঢিলা হয়ে গেলে ইঞ্জিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্যাটারির টার্মিনাল ঢিলা থাকা, স্পার্ক প্লাগ পুরনো হয়ে যাওয়া বা ইগনাইশন কয়েলে সমস্যা হলে ঠিকমতো স্পার্ক তৈরি হয় না। বাইক দীর্ঘ সময় আইডল অবস্থায় থাকলে এই সমস্যা বেড়ে যায়। নিয়মিত ব্যাটারি চেক করা, সময়মতো স্পার্ক প্লাগ বদলানো এবং সব সংযোগ ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করলেই বেশিরভাগ ইলেকট্রিক্যাল সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
এয়ার ফিল্টার নোংরা হয়ে যাওয়া
ইঞ্জিন হেলথ ভালো রাখতে চাইলে সঠিক এয়ার-ফুয়েল মিক্সের বিকল্প নেই। এয়ার ফিল্টার বেশি নোংরা হলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ইঞ্জিন স্মুথভাবে কাজ করতে পারে না এবং ট্রাফিকে বারবার বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা বা প্রয়োজনে বদলে ফেলাই এখানে সবচেয়ে ভালো সমাধান।
উপসংহার
অনেকেই ভাবেন বড় কোনো সমস্যার কারণে ট্রাফিকে বাইক বারবার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আসলে বাইক স্টল করলেই বড় কোনো সমস্যা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। এই সমস্যার পেছনে বেশিরভাগ সময় ছোটখাটো বিষয় জড়িত থাকে, যেমন - ফুয়েল, এয়ার, হিট এবং সঠিক সেটিং। এসব জায়গায় একটু মনোযোগ দিলে এবং নিয়মিত বেসিক মেইনটেন্যান্স করলে ট্রাফিকে বাইক স্টল করার ঝামেলা অনেকটাই কমানো যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. আমার বাইক কেন ট্রাফিকের মাঝে বন্ধ হয়ে যায়?
লো আইডল আরপিএম, ইঞ্জিন গরম হওয়া এবং ঘনঘন ক্লাচ ব্যবহার করার কারণে ট্রাফিকের মাঝে বাইক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
২. লো কোয়ালিটির ফুয়েলের কারণে কী বাইক স্টল করতে পারে?
হ্যাঁ। লো কোয়ালিটির বা দূষিত ফুয়েল কম গতিতে কম্বাসশন ঠিকমতো হতে দেয় না। ফলে বাইক স্টল করতে পারে।
৩. ইঞ্জিন অয়েলের কারণে কি বাইক স্টল করতে পারে?
হ্যাঁ। ইঞ্জিন অয়েল কমে গেলে বা পুরনো হয়ে গেলে ইঞ্জিন বেশি গরম হয়, যার কারণে স্টল করতে পারে।
৪. কার্বুরেটর বাইক কেন বেশি স্টল করে?
কার্বুরেটর বাইক আইডল সেটিং এবং ফুয়েল কোয়ালিটির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
৫. বাইক বন্ধ হয়ে গেলে কি সাথে সাথে রাইড করা উচিত?
ভালো হয় যদি কয়েক সেকেন্ড ইঞ্জিনকে স্টেবল হতে দেন এবং তারপর লো স্পিডে চালানো শুরু করেন। এতে করে বারবার স্টল করার ঝুঁকি কমে যায়।







































