গাড়ি ওভারহিট করলে কী করবেনঃ রাস্তায় থাকা অবস্থায় জরুরি কুলিং টিপস

গাড়ি ওভারহিট হওয়া একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর সমস্যা। গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় চালানো অথবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি হঠাৎ হতে পারে। তাপমাত্রা মিটার বেড়ে যাওয়া, সতর্কতা লাইট জ্বলা বা বোনেট থেকে বাষ্প বের হওয়া স্পষ্ট লক্ষণ। আরও কিছু লক্ষণ আছে, যেমন: একধরণের মিষ্টি পোড়া গন্ধ অথবা হঠাৎ এসি থেকে গরম হাওয়া বের হওয়া। অনেক চালক ভয় পেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। সঠিক পদক্ষেপ জানা থাকলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। শান্ত থাকা, নিরাপদে থামা এবং ইঞ্জিন ঠান্ডা করার সঠিক উপায় অনুসরণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
গাড়ি ওভারহিট হলে করণীয় ১০ টি জরুরি পরামর্শ
১. শান্ত থাকুন ও গতি কমান
ওভারহিটের লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে গতি কমিয়ে ফেলুন। কারণ দ্রুত চালালে ইঞ্জিন আরও গরম হয়। নিজেকে শান্ত রাখুন এবং ধীরে ধীরে গাড়ির গতি কমিয়ে আনুন।
২. নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান
ট্রাফিক থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান। মনে রাখবেন, আপনি যদি জোর করে চালানোর চেষ্টা করেন তা আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
৩. সম্ভব হলে থামার আগে হিটার চালু করুন
হিটারের কাজ হলো তাপ বাইরে বের করে দেওয়া। তাই চেষ্টা করুন হিটার চালু রাখার। এতে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমে যায়।
৪. ইঞ্জিন বন্ধ করুন
গাড়ি থামানোর পর আপনার প্রথম কাজ হবে ইঞ্জিন বন্ধ করা। এতে তাপ উৎপাদন কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে। ইঞ্জিন বন্ধ না করলে গাড়ি আরও উত্তপ্ত হতে থাকবে।
৫. সঙ্গে সঙ্গে বোনেট খুলবেন না
গরম অবস্থায় বোনেট খুললে বাষ্প বা গরম তেল বের হতে পারে। তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ওভারহিট অবস্থায় সাথে সাথে বোনেট খোলার কোনো প্রয়োজন নেই।
৬. ঠান্ডা হলে সাবধানে বোনেট খুলুন
ধীরে ধীরে সময় নিয়ে বোনেট খু্লুন, তাড়াহুড়ো করবেন না। বোনেট খুলে এক পাশে গিয়ে দাঁড়ান। এতে হঠাৎ তাপ বের হলেও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যাবে।
৭. গরম অবস্থায় রেডিয়েটরের ঢাকনা খুলবেন না
কখনোই গরম অবস্থায় রেডিয়েটরের ঢাকনা খুলে ফেলবেন না। চাপযুক্ত গরম কুল্যান্ট ছিটকে পড়ে মারাত্মক পোড়া লাগতে পারে। ইঞ্জিন সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পরই কাপড় ব্যবহার করে রেডিয়েটরের ঢাকনা খোলার কথা ভাবা উচিত। এক্ষেত্রে খুবই সাবধান ও সতর্ক থাকবেন।
৮. তাপমাত্রা মিটার লক্ষ্য করুন
যখন গাড়ি সাইড করবেন, অবশ্যই এর মিটারের দিকে নজর দিবেন। দেখবেন মিটার বেড়ে যাচ্ছে কিনা। বেড়ে গেলে সাথে সাথেই আবার বন্ধ করে দিবেন।
৯. হ্যাজার্ড লাইট ব্যবহার করুন
যেহেতু এটি হঠাৎ দুর্ঘটনা, তাই রাস্তায় থামার সময় অন্য চালকদের সতর্ক করতে হ্যাজার্ড লাইট চালু করুন। এতে রাস্তায় বাকি গাড়ি চালকরাও সাবধান হতে পারবে।
১০. মেকানিক বা রোডসাইড সহায়তা ডাকুন
যথাসম্ভব পেশাদার সহায়তা নিন। প্রয়োজনে গাড়ি ধাক্কা দিয়ে মেকানিকের কাছে নেওয়ার ব্যবস্থা নিন।
শেষ কথা
গাড়ি ওভারহিট হওয়া ভয়ানক বিষয় হলেও আপনি ঠান্ডা মাথায় কাজ করবেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। বার বার ইঞ্জিন চালু করবেন না, কারণ এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে এমন কিছু করবেন না, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেয়। মনে রাখবেন, গাড়ির চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. গাড়ি ওভারহিট হলে কি গাড়ি চালানো চালিয়ে যাওয়া উচিত?
না, গাড়ি ওভারহিট হলে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এতে মারাত্মক ভাবে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।
২. হিটার চালু করলে কি সত্যিই ইঞ্জিন ঠান্ডা হয়?
হ্যাঁ, হিটারের কাজ হলো তাপ বাইরে বের করে দেওয়া। হিটার ধীরে ধীরে ইঞ্জিনকে ঠান্ডা করে।
৩. ঢাকার ট্রাফিকে গাড়ি ওভারহিট হলে ইঞ্জিনে পানি ঢেলে কি ঠান্ডা করা নিরাপদ?
না, এই কাজ কখনো করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। ইঞ্জিনে হঠাৎ পানি ঢাললে ইঞ্জিন ফেটে যেতে পারে। ঢাকার ট্রাফিকে নিরাপদভাবে থেমে ইঞ্জিন বন্ধ করে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে দেওয়া উচিত।
৪. কতক্ষণ পর বোনেট খোলা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ি ওভারহিট হলে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, এরপর ধীরে ধীরে বোনেট খোলা খুলুন।
৫. গাড়ি কেনো ওভারহিট হয়?
বিভিন্ন কারণে গাড়ি ওভারহিট হয়। যেমনঃ কুল্যান্ট কম থাকা, রেডিয়েটর সমস্যা অথবা ইঞ্জিনের ফ্যান নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।







































