প্রথমবার বাইক মালিকদের যেসব মেইনটেন্যান্স ভুল এড়িয়ে চলা উচিত

মোটরসাইকেল শুধুমাত্র একটি জরুরি যোগাযোগ মাধ্যমই নয়, এটি প্রায় সব রাইডারের কাছে প্রিয় একটি বাহন। নতুন বাইক কেনা যতটা আনন্দের, তার সঠিক মেইনটেন্যান্স ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ মোটরসাইকেল মালিকানার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি। যেমন, একটি নতুন মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন সহ সকল পার্টস অ্যাডজাস্ট হতে কিছুটা সময় লাগে, একে ব্রেক-ইন পিরিয়ড বলে। এই সময়ে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে বাইক চালাতে হয়। এই সময়ে স্পিডে চালানো এবং হঠাৎ হার্ড ব্রেক করা একেবারেই উচিত নয়। এছাড়া ইঞ্জিন অয়েল এবং লুব্রিক্যান্ট ব্যবহারে অনেকেই ভুল করে ফেলেন।
প্রথম প্রথম মোটরবাইক কিনলে প্রায় সবাই খুব যত্ন করেন। তবে সঠিকভাবে মেইনটেন্যান্স করার বিষয়ে সবার পুরোপুরি জ্ঞান থাকে না। নতুন বাইকে ভুলভাবে মেইনটেন্যান্স, দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে। এই ব্লগে প্রথমবার বাইক মালিকদের যেসব মেইনটেন্যান্স ভুল এড়িয়ে চলা উচিত, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
প্রথমবার বাইক কিনেছেন? এই মেইনটেন্যান্স ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
নতুন বাইক ব্যবহারকারীদের সঠিক গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল, চেইন পরিষ্কার, নির্ধারিত স্পিডের মধ্যে ড্রাইভ, টায়ার প্রেশার ঠিক রাখা, এবং ব্রেক-সাসপেনশন, নিয়মিত মেইনটেন্যান্স করতে হবে। সপ্তাহে একদিন বাইক পরিষ্কার করা উচিত। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সার্ভিসিং সেন্টারে নেয়া উচিত। এসবকিছু ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ করলে আপনার মোটরসাইকেল লং লাস্টিং পারফরম্যান্স দেবে।
১. সঠিক গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার এবং পরিবর্তনে উদাসীনতা
বেশিরভাগ বাইকের প্রথম সার্ভিসে তাদের প্রথম তেল পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় (সাধারণত ৫০০-১০০০ কিমি); ম্যানুয়াল/সার্ভিস বুকলেট অনুসরণ করুন। তাই ব্রেক-ইন পিরিয়ড পার হবার আগেই ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হবে। বাইকের ম্যানুয়াল অনুযায়ী প্রস্তাবিত সময়ে ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা না হলে ইঞ্জিনের আয়ু দ্রুত কমে যায়।
ইঞ্জিন অয়েল, ইঞ্জিনের সকল পার্টস লুব্রিকেট করে এবং ফ্রিকশন কমিয়ে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে। এছাড়া অনেকেই সঠিক গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে অবহেলা করেন। নকল বা নিম্নমানের তেল ক্ষয়, ওভার হিটিং, স্লাজ বাড়ায় এবং বিয়ারিং বা ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ ক্ষতি করতে পারে।
২. টায়ার প্রেশার পরীক্ষা না করা
নতুন মোটরসাইকেলের টায়ারে ম্যানুয়াল অনুযায়ী প্রস্তাবিত পিএসআই বজায় রাখুন। অনেকেই মনে করেন নতুন বাইকের টায়ার প্রেশার তো ঠিক থাকবেই। টায়ারে চাপ ঠিক না থাকলে অসম ট্রেড ক্ষয় হয়, মাইলেজ কমে, এবং ব্রেকিং খারাপ হয়।
৩. চেইন মেইনটেন্যান্সে উদাসীনতা
নতুন বাইকের, ব্রেক এবং হুইলের সাথে চেইন অ্যাডজাস্ট হতে কিছুটা সময় লাগে। তাই ব্রেক-ইন পিরিয়ডের মধ্যে এটি নিয়মিত পরিষ্কার, এবং লুব্রিকেট করতে হবে। চেইন সঠিকভাবে সামঞ্জস্য না হলে কিংবা ঢিলেঢালা থাকলে গিয়ার শিফটিং সমস্যা এবং ব্রেক ফেল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন চেইন পরিষ্কার করে গিয়ার অয়েল বা চেইন লুব ব্যবহার করুন।
৪. ব্রেক ও ক্লাচ লিভার মেইনটেন্যান্সে অবহেলা
অযথা নতুন মোটরসাইকেলের ব্রেক ও ক্লাচ লিভার ঘন ঘন চাপলে ব্রেক ও ক্লাচ লিভার ক্ষয় কিংবা লুজ হয়ে যায়। ব্রেক বা ক্লাচ লিভার চেপে ধরে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন, এতে ক্লাচ প্লেট দ্রুত ক্ষয়ে যায় এবং ব্রেক প্যাড কার্যকারিতা হারায়। নিয়মিত ব্রেক প্যাড, ব্রেক ফ্লুইড, ব্রেক লাইন এবং ব্রেক সিস্টেম পরীক্ষা করুন।
৫. প্রস্তুতকারকের ম্যানুয়াল সঠিকভাবে অনুসরণ না করা
প্রতিটি মোটরসাইকেলের সাথে একটি নির্দিষ্ট ম্যানুয়াল থাকে। ম্যানুয়ালে বিভিন্ন নির্দেশনা থাকে, কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, কখন কী কী পরিবর্তন করতে হবে, ইঞ্জিন অয়েল কী গ্রেডের হবে, টর্ক সেটিংস, সহ বাইকের বিভিন্ন মূল্যবান তথ্য থাকে। অনেকেই রক্ষণাবেক্ষণ করার সময় ম্যানুয়াল সঠিকভাবে অনুসরণ করেন না।
নতুন বাইক ব্যবহারকারীদের করা আরো কিছু সাধারণ মেইনটেন্যান্স ভুলসমূহ
পরিশেষে
যারা প্রথমবারের মতো বাইক কিনছেন, তাদের সঠিক মেইনটেন্যান্সের নিয়ম জানা অপরিহার্য। অনেকেই নতুন বাইক পাওয়ার উত্তেজনায় ছোটখাটো ভুল করে ফেলে। ছোটখাটো অবহেলা ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় রূপ নেয়। যা বাইকের পারফরম্যান্স কমায়, ঘন ঘন ব্রেকডাউন করে, জ্বালানি খরচ বাড়ে, এবং ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল সার্ভিসিং করতে হতে পারে। উপরে আলোচিত এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চললে প্রথমবার বাইক ব্যবহারকারীদের বাইক দীর্ঘদিন ভালো এবং নিরাপদ অবস্থায় থাকবে। এটি শুধু পারফরম্যান্স এবং চাকচিক্য নয়, আপনার সেফটিও নিশ্চিত করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. নতুন বাইকে ইঞ্জিন অয়েল কেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবর্তন করতে হয়?
নতুন বাইকের ইঞ্জিনের ভেতর ফ্রিকশনের ফলে ছোট ছোট ধাতব কণা সৃষ্টি হয়। মেটাল পাউডারে তেল নোংরা হয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবর্তন করা না হলে ইঞ্জিনের বড় ক্ষতি হতে পারে।
২. ব্রেক-ইন পিরিয়ড কী?
নতুন বাইক কেনার পর প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম কয়েকশো কিলোমিটার নিয়ম মেনে চালাতে হয়। এর সময় কে ব্রেক-ইন পিরিয়ড বলে।
৩. নতুন বাইকের টায়ার প্রেশার পরীক্ষা করা কি জরুরি?
হ্যাঁ, খুবই জরুরি। নতুন বাইকের টায়ারে ম্যানুয়াল অনুযায়ী প্রস্তাবিত পিএসআই বজায় রাখুন। অনেকেই মনে করেন নতুন বাইকের টায়ার প্রেশার তো ঠিক থাকবেই। টায়ারের চাপ ঠিক না থাকলে দ্রুত ট্রেড অসম ক্ষয় হয়, মাইলেজ কমে, এবং ব্রেকিং খারাপ হয়।
৪. চেইনে লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা যাবে?
না। চেইন পরিষ্কার করে ভালো মানের গিয়ার অয়েল বা চেইন লুব ব্যবহার করতে হবে। ইঞ্জিন অয়েল, মোবিল, ইত্যাদি ধুলোবালি আটকে ফেলে।
৫. নতুন বাইকে মডিফিকেশন করা কি ঠিক হবে?
ব্রেক-ইন পিরিয়ডের আগে বাইকে মডিফিকেশন না করাই ভালো। এতে ইঞ্জিনের টিউনিং এবং বাইকের ওজন বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া ওয়ার্যান্টি ইস্যু হতে পারে।







































