ভারী শহুরে ট্র্যাফিকে ক্লাচ প্লেটের আয়ু কীভাবে বাড়ানো যায়

Md. Anowarul Haque
time
5 মিনিটে পড়া যাবে
feature image

ক্লাচ প্লেট ঘন ঘন ফ্রিকশনে ক্ষয় হয়ে যায়। এটি ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্সের মধ্যে পাওয়ার সংযোগ করে। ভারী শহুরে ট্র্যাফিকে ঘন ঘন গিয়ার পরিবর্তন করতে হয় এবং বারবার ক্লাচ ছেড়ে-চেপে ধরতে হয়, তাই ক্লাচ প্লেটের আয়ুষ্কাল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যায়। শহরের এই স্টপ-অ্যান্ড-গো ড্রাইভিং-এ মূলত দুটি প্রধান কারণে ক্লাচ প্লেট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, একটি হলো প্রয়োজন ছাড়াই ক্লাচ চেপে রাখা (Riding the Clutch), অন্যটি ট্রাফিকে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রেকের বদলে ঘন ঘন ক্লাচ ব্যবহার করা (Half-clutch position)। অকালে ক্লাচ প্লেট ক্ষয় হলে গাড়ির চালনক্ষমতা কমে যায় এবং মেরামত খরচ বেড়ে যায়।

সঠিক ড্রাইভিং কৌশল, ক্লাচ প্লেটের যত্ন এবং নিয়মিত সার্ভিসিং-এর মাধ্যমে শহরের ঘন যানজটেও, আপনার গাড়ির ক্লাচ প্লেটের স্থায়িত্ব এবং পারফরম্যান্স বহুগুণ বাড়াতে পারবেন। এই ব্লগে ভারী শহুরে ট্র্যাফিকে ক্লাচ প্লেটের আয়ু কীভাবে বাড়ানো যায়, এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া কীভাবে ক্লাচের উপর চাপ কমাবেন, কী কী ভুল এড়িয়ে চলবেন এবং কীভাবে যত্ন নেবেন, সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

শহরের ঘন যানজটে ক্লাচ প্লেট দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপায়

১. ট্রাফিকে থামানোর প্রয়োজনে গাড়ি নিউট্রাল গিয়ারে রাখুন

ট্রাফিকে বেশি সময় থামার প্রয়োজন হলে, ক্লাচ সম্পূর্ণ ছেড়ে, গাড়ি নিউট্রাল গিয়ারে রাখুন। দীর্ঘক্ষণ ক্লাচ চেপে রাখলে গাড়ির রিলিজ বিয়ারিং, ক্লাচ স্প্রিং এবং প্রেশার প্লেট ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ট্র্যাফিকের মধ্যে থামলে, গাড়িটি নিউট্রালে রাখুন এবং হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করুন। উঁচু, ঢালু কিংবা পাহাড়ি রাস্তায়, অপ্রয়োজনে গাড়ি স্থির বা দাঁড় করিয়ে রাখবেন না। এতে ক্লাচ এবং অ্যাক্সিলারেটরের ভারসাম্যে প্রভাব পরে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করুন, যাতে সামনে কিংবা পিছনে না যায়।

২. প্রয়োজন ছাড়া ক্লাচ চেপে রাখা পরিহার করুন

অনেক চালক ক্লাচের উপর পা রেখে গাড়ি চালানোয় অভ্যস্ত। এই অবচেতন অভ্যাসকে 'Riding the Clutch' বলে। ক্লাচে সবসময় পা দিয়ে রাখলে হালকা চাপে ক্লাচ প্লেট পুরোপুরি ডিসকানেক্ট হয় না। বারবার হালকা চাপে ক্লাচ প্লেটে ফ্রিকশন হতে থাকে, যা ক্লাচ লাইনিংকে দ্রুত পুড়িয়ে দেয়, তাই প্লেটটি দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। প্রয়োজন ছাড়া ক্লাচ চেপে রাখা বা ক্লাচে পা রাখা একদম বন্ধ করুন। গিয়ার শিফট করেই পা ক্লাচ থেকে সরিয়ে ফেলুন। দীর্ঘ ট্রাফিকে গাড়ি নিউট্রাল গিয়ারে রেখে ক্লাচ ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

৩. হাফ-ক্লাচের বদলে ফুটব্রেক বা হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করুন

স্টপ-অ্যান্ড-গো ট্র্যাফিকে আপনাকে হাফ-ক্লাচ যতটা সম্ভব এড়াতে হবে, অর্থাৎ ক্লাচ সম্পূর্ণভাবে সংযুক্ত বা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ঢালু, পাহাড়ি রাস্তা বা ফ্লাইওভারের ঢালে গাড়ি স্থির রাখতে অনেক চালক ফুটব্রেক বা হ্যান্ডব্রেকের বদলে 'হাফ-ক্লাচ' করেন। 'হাফ-ক্লাচ' অর্থ, গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রেকের বদলে ঘন ঘন ক্লাচ ব্যবহার করা। এটি ক্লাচ প্লেটের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ এতে ফ্রিকশনে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয় এবং প্লেট পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। গাড়ি থামিয়ে রাখতে ফুটব্রেক বা হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করুন।

৪. স্মুথলি গিয়ার শিফট করুন

ট্রাফিকে গাড়ি স্টার্ট করার পর ন্যূনতম রেভ বা আরপিএমে চালান। স্পিড বাড়াতে, দ্রুত গিয়ার শিফট করতে বা টর্ক বাড়াতে অতিরিক্ত আরপিএম দিলে ক্লাচ স্লিপ করে, যা ফ্রিকশন বাড়ায়। এতে ক্লাচ প্লেট দ্রুত অতিরিক্ত গরম এবং ক্ষয় হয়। ধীরে ধীরে ক্লাচ ছাড়ুন এবং অ্যাক্সিলারেটর ভারসাম্য করুন। ট্রাফিকে অন্যান্য গাড়ির স্পিড অনুযায়ী গিয়ার পরিবর্তন করুন।

৫. ট্রাফিকে অন্যান্য গাড়ির সাথে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখুন

ট্রাফিকে আপনার গাড়ি বাম্পার-টু-বাম্পার করা থেকে সতর্ক থাকুন। ট্রাফিকে অল্প অল্প করে আগাবার জন্য বারবার ক্লাচ না চেপে, সামনের গাড়ির সাথে কিছুটা দূরত্ব তৈরী করুন। এরপর স্মুথলি ক্লাচ ছেড়ে একবারে ওই দূরত্ব কভার করুন। শহরের তীব্র ট্রাফিকে সাধারণত ১ নম্বর গিয়ারে গাড়ি চালানোয় পরামর্শ দেয়া হয়।

ট্রাফিক জ্যামে ক্লাচ প্লেট বাঁচানোর কিছু টিপস

  • ট্রাফিকে গাড়ি ছাড়ার সময় হ্যান্ডব্রেক ধীরে ধীরে নামিয়ে ক্লাচে রিলিজ করার প্র্যাকটিস করুন।
  • ঢালু, পাহাড়ি রাস্তা বা ফ্লাইওভারের ঢালে গাড়ি পিছিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করুন।
  • গাড়িতে অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলুন, এতে ক্লাচকে বেশি টর্ক হ্যান্ডেল করতে হয়।
  • নিয়মিত ক্লাচ ক্যাবল এবং ক্লাচ অ্যাডজাস্টমেন্ট বা ফ্লুইড লেভেল পরীক্ষা করুন।
  • অ্যাগ্রেসিভ ড্রাইভিং এড়িয়ে চলুন, স্মুথ অ্যাক্সিলারেশন করুন, কারণ এটি ক্লাচের লোড বাড়িয়ে দেয়। এতে ক্লাচ ছাড়াও টায়ার এবং ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব বাড়ে।
  • ঘন ঘন ক্লাচ স্লিপিং অর্থাৎ স্পিড না বেড়ে ইঞ্জিনের আরপিএম বৃদ্ধি পেলে বুঝবেন ক্লাচ ফেল করছে। এছাড়া ক্লাচে পোড়া গন্ধ পেলে, ভালোভাবে গিয়ার শিফটিং না হলে, এবং ফ্রিকশনের অদ্ভুত শব্দ হলে, বুঝবেন ক্লাচ প্লেটে কোনো একটা সমস্যা হয়েছে।

    পরিশেষে

    ট্রাফিকে গাড়ি চালানো বেশ চাপের, এরকম অবস্থায় ক্লাচ প্লেটের উপর সবচেয়ে বেশি চাপ পরে। ক্লাচ প্লেট সুরক্ষিত রাখা গাড়ি এবং আপনার নিরাপত্তার জন্য জরুরি। ক্লাচ প্লেট বদলানো এবং মেরামত খরচ বেশ ব্যয়বহুল। সঠিক ড্রাইভিং অভ্যাস এবং ছোট ছোট কিছু টিপস মেনে চললে ক্লাচ প্লেটের স্থায়িত্ব অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব। অনেক চালকই বুঝতে পারেন না তাঁদের ড্রাইভিং অভ্যাসের কারণেই ক্লাচ প্লেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মেরামতের খরচ বাড়ছে। পরিকল্পিত ও সচেতন ড্রাইভিং ক্লাচের জন্য উপকারী। হুট করে স্পিড বাড়ানো বা জোরে ব্রেক না করে, ট্রাফিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বুঝে শুনে গাড়ি চালান, এতে বারবার ক্লাচ ব্যবহার কমে যায়।

    সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

    ১. শহরের ট্রাফিকে ক্লাচ প্লেট কেন দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়?

    ভারী শহুরে ট্র্যাফিকে ঘন ঘন গিয়ার পরিবর্তন করতে হয় এবং বারবার ক্লাচ ছেড়ে-চেপে ধরতে হয়। এতে ক্লাচ প্লেটে অতিরিক্ত ঘর্ষণের কারণে প্লেট পুড়ে দ্রুত পাতলা হয়ে যায়। তাই ক্লাচ প্লেটের আয়ুষ্কাল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যায়।

    ২. 'Riding the clutch' কেন ক্ষতিকর?

    এর অর্থ প্রয়োজন ছাড়াই ক্লাচ চেপে রাখা। অনেক চালক গাড়ি চালানোর সময় পুরোপুরি ক্লাচ না ছেড়ে কিছুটা চেপে রাখেন, এতে ফ্রিকশনের ফলে অতিরিক্ত গরমে ক্লাচ প্লেট দ্রুত ক্ষয়ে যায়।

    ৩. ট্রাফিকে ক্লাচ কীভাবে ব্যবহার করা উচিত?

    ট্রাফিকে বেশি সময় থামার প্রয়োজন হলে, ক্লাচ সম্পূর্ণ ছেড়ে, গাড়ি নিউট্রাল গিয়ারে রাখুন। দীর্ঘক্ষণ ক্লাচ চেপে রাখলে গাড়ির রিলিজ বিয়ারিং, ক্লাচ স্প্রিং এবং প্রেশার প্লেট ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ট্রাফিকে গাড়ি ফার্স্ট গিয়ারে রাখুন, এবং হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করুন। সামনে এগোতে ক্লাচ চাপুন, গিয়ার দিন এবং স্মুথলি ছাড়ুন।

    ৪. ঢালু, পাহাড়ি রাস্তা বা ফ্লাইওভারের ঢালে, ট্রাফিকে পড়লে ক্লাচ কীভাবে ব্যবহার করা উচিত?

    ঢালু, পাহাড়ি রাস্তা বা ফ্লাইওভারের ঢালে গাড়ি পিছিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করুন। সামনে আগানোর সময় ধীরে ধীরে ক্লাচ ছেড়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিন এবং হ্যান্ডব্রেক নামিয়ে দিন।

    ৫. কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন ক্লাচে কোনো সমস্যা হয়েছে?

    ঘন ঘন ক্লাচ স্লিপিং অর্থাৎ স্পিড না বেড়ে ইঞ্জিনের আরপিএম বৃদ্ধি পেলে বুঝবেন ক্লাচ ফেল করছে। এছাড়া ক্লাচে পোড়া গন্ধ পেলে, ভালোভাবে গিয়ার শিফটিং না হলে, এবং ফ্রিকশনের অদ্ভুত শব্দ হলে, বুঝবেন ক্লাচ প্লেটে কোনো একটা সমস্যা হয়েছে।

    অনুরূপ খবর

    • Maintenance & Care Tips

      মোটরসাইকেলের গিয়ার শিফটিং সমস্যাঃ কারণ ও সমাধান

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      শহরের যানজটে ব্রেক ডিস্ক বেঁকে যাওয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      আপনার গাড়ির শক অ্যাবজর্বার নষ্ট হওয়ার লক্ষণসমূহ

      time
      5 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ইঞ্জিন ওয়ার্ম আপ না করলে কীভাবে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ট্রাফিকে গাড়ির ব্যাটারি ডেড হলে কী করবেন

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      যানবাহনের ইঞ্জিন মিসফায়ারিং এর লক্ষণগুলো কীভাবে শনাক্ত করবেন?

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ধুলোপ্রবণ শহরে নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকায় মরিচা ও ক্ষয় যেভাবে প্রতিহত করবেন

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশন: ৮০-১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশনের কারণ কী?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      নিজ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ওয়ার্কশপ কীভাবে বেছে নেবেন

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে

    সর্বশেষ গাড়ির রিভিউ

    • Suzuki Alto K10 2015

      Hatchback

      ৳ 800K - 1.2M

    • Toyota Aqua 2014

      Hatchback

      ৳ 1.5M - 1.6M

    • Suzuki Swift 2017

      Hatchback

      ৳ 1.7M - 2.2M

    • Toyota Vitz 2017

      Hatchback

      ৳ 1.8M - 2.3M

    • Nissan Leaf 2014

      Hatchback

      ৳ 1.6M - 2.2M

    • Mitsubishi Montero 2015

      SUV & 4X4

      ৳ 4.5M - 6M

    • Suzuki Wagon R 2018

      Hatchback

      ৳ 750K - 1.1M

    • Honda Civic 2019

      Saloon & Sedan

      ৳ 3.5M - 4.5M

    • Land Rover Defender 2020

      SUV & 4X4

      ৳ 14M - 18M

    • Mitsubishi Lancer 2017

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.5M - 3M

    • Toyota Axio 2016

      Saloon & Sedan

      ৳ 1.8M - 2.4M

    • Toyota Premio G Superior 2018

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.3M - 3M

    সর্বশেষ বাইকের রিভিউ

    • Hero Ignitor 125 2020 IBS

      ৳ 115.7K - 128.5K

    • Honda X-Blade 160 ABS

      ৳ 194.9K - 216.5K

    • Honda Livo 110 Drum

      ৳ 107.9K - 119.9K

    • Keeway TXM 150

      ৳ 161.1K - 179K

    • Suzuki Gixxer Monotone

      ৳ 182K - 192K

    • Suzuki Gixxer SF Matt Plus

      ৳ 315K - 350K

    • Yamaha R15 S

      ৳ 409.5K - 455K

    • Hero Hunk 150 R Dual Disc ABS

      ৳ 166.1K - 232K

    • TVS Apache RTR 165 RP

      ৳ 297K - 360K

    • Suzuki Intruder FI ABS

      ৳ 247.5K - 320K

    • Suzuki Bandit 150

      ৳ 288K - 320K

    • KTM RC 125

      ৳ 333K - 566K

    hero

    আপনার গাড়ি বা বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন মাত্র ২ মিনিটে পোস্ট করুন একদম ফ্রি!