শহরের ভাঙা রাস্তায় গাড়ির সাসপেনশন কীভাবে মেইনটেইন করবেন

শহরের রাস্তায় গর্ত, ভাঙা পিচ আর উচুঁ-নিচু অংশ খুবই কমন। এই রাস্তাগুলো আপনার গাড়ির সাসপেনশনের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ ফেলে। শুরুতে বেশিরভাগ ড্রাইভারই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। তবে বিষয়টি গুরুত্ব পায় যখন গাড়ির সাসপেনশন শব্দ করতে শুরু করে। কিন্তু একটু সচেতন হয়ে ড্রাইভ করলেই সাসপেনশনের অযথা ক্ষয় কমানো যায়, আর দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি খরচও কমানো যায়।
ধীরে গাড়ি চালানোর অভ্যাস করুন
শুরুতেই একটা সহজ নিময় মনে রাখুন, - শহরের ভাঙা রাস্তায় সবসময়ই ধীরে ড্রাইভ করতে হবে। অনেক ড্রাইভারই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেন। কিন্তু গর্তে বেশি গতিতে পড়লে শক অ্যাবজর্বার, স্প্রিং আর বুশিং একসাথে ধাক্কা খায়। এতে করে সাসপেনশনে ক্ষয় বৃদ্ধি পায়। তাই সামান্য গতি কমিয়ে আনলেও দীর্ঘমেয়াদে সাসপেনশনের কম্পোনেন্টগুলোর ক্ষয় অনেকটাই রোধ করা যায়।
নিয়মিত চেক করানো জরুরি
গাড়ির সাসপেনশনে সমস্যা হলে সেটা কিন্তু শুরতেই চোখে পড়ে না। তাহলে কীভাবে বুঝবেন যে সাসপেনশনে সমস্যা হচ্ছে কি না? এটা বোঝা যাবে যখন দেখবেন যে, গাড়িটা একটু বেশিই দুলছে, ব্রেক করার সময় ভাইব্রেট করছে বা ছোট গর্তে পড়লেও অনেক বেশি ইমপ্যাক্ট অনুভূত হচ্ছে। তাই নিয়মিত সার্ভিসিং এর সময় গাড়ির সাসপেনশনের কম্পোনেন্টগুলো চেক করিয়ে নেয়া উচিত। এতে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার আগেই ধরা পড়তে পারে।
গাড়ির হুইল অ্যালাইনমেন্ট ও ব্যালেন্স ঠিক রাখুন
যেসব এলাকায় রাস্তা বেশি ভাঙা, সেখানে ড্রাইভ করলে হুইল অ্যালাইনমেন্ট সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে সাসপেনশনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং ক্ষয় বৃদ্ধি পায়। গাড়ির স্টিয়ারিং যদি শুধু একদিকে সরে যায় বা টায়ার অসমভাবে ক্ষয় হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে হুইল অ্যালাইনমেন্ট ঠিক নেই।
ভাঙা রাস্তায় বাড়তি বোঝা এড়িয়ে চলুন
গাড়িতে নিয়মিত অতিরিক্ত ওজন বহন করলে সাসপেনশনের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যায়। নিয়মিত ভাঙা রাস্তা দিয়ে ড্রাইভ করলে এই চাপ সাসপেনশনের কম্পোনেন্টগুলোর ক্ষয় অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সম্ভব হলে অতিরিক্ত বোঝা বহন এড়িয়ে চলুন। আর লাগেজ বা মালপত্র থাকলে সেগুলো গাড়ির ভেতর সমানভাবে ভাগ করে রাখুন। এতে করে অংশ নির্দিষ্ট অংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।
শুরুর দিকের লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
ড্রাইভ করার সময় শব্দ করলে, অতিরিক্ত ভাইব্রেট করলে বা ব্রেক করার সময় অস্বাভাবিক আওয়াজ করলে বুঝতে হবে কোনো কম্পোনেন্ট ঢিলা বা ক্ষয় হয়ে গিয়েছে। এগুলো নিজের থেকে ঠিক হবে না। শুরুতেই ব্যবস্থা নিলে বড় ক্ষতি আর বড় খরচ - দুটোই এড়ানো যায়।
উপসংহার
আমরা চাইলেই শহরের ভাঙা রাস্তা এড়িয়ে চলতে পারবো না। কিন্তু নিজের অসচেতনতার কারণে গাড়ির সাসপেনশন নষ্ট হওয়াটা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব। একটু ধীরে ড্রাইভ করা, নিয়মিত চেক করানো আর সময়মতো রিপেয়ার করে নেয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে সাসপেনশনকে ভালো রাখে। আর এতে করে অনেক ব্যয়বহুল সার্ভিসিং এর হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. কত দিন পর পর আমার গাড়ির সাসপেনশন চেক করবো?
বছরে অন্তত একবার অথবা নিয়মিত সার্ভিসিং এর সময় আপনার গাড়ির সাসপেনশনের কম্পোনেন্টগুলো চেক করে নিতে পারেন।
২. গাড়ি গর্তে পড়লে কি সাসপেনশন নষ্ট হতে পারে?
হ্যাঁ। গাড়ি যদি বারবার গর্তে পড়ে বা উচুঁ-নিচু রাস্তায় ধাক্কা লাগে তাহলে শক, স্প্রিং আর বুশিং দ্রুত ক্ষয় হয়।
৩. খারাপ সাসপেনশন কি টায়ারের ক্ষতি করতে পারে?
হ্যাঁ। এতে টায়ার অসমভাবে ক্ষয় হয় এবং গ্রিপ কমে যায়।
৪. নষ্ট শক নিয়ে গাড়ি চালানো কী নিরাপদ?
না। এতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায় ও ব্রেকিং পাওয়ার কমে যায়।
৫. বাড়তি ওজন কী সাসপেনশনের ক্ষতি করে?
হ্যাঁ। অতিরিক্ত ওজন সাসপেনশনের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং ক্ষয় ত্বরাণ্বিত করে। এতে করে সাসপেনশনের আয়ু কমে যায়।







































