পুরোনো গাড়িতে ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন কীভাবে কমাবেন

গাড়ির নিয়মিত ব্যবহার এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইঞ্জিনে বিরক্তিকর শব্দ এবং কম্পন বেড়ে যেতে পারে। ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ পুরোনো হয়ে যাওয়া, ইঞ্জিনের মাউন্ট ঢিলে হয়ে যাওয়া, যন্ত্রাংশে ময়লা জমা, স্পার্ক প্লাগে ত্রুটি, এক্সহস্ট লিক, নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার, ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে এরকম সমস্যা হতে পারে। এছাড়া নিয়মিত ব্যবহারে ইঞ্জিনে লুব্রিকেন্টের কার্যকারিতা কমে যন্ত্রাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন একেবারে দূর করা বেশ কঠিন, তবে কমানো সম্ভব। কিছু কৌশল মেনে চললে এবং সঠিকভাবে মেইনটেন্যান্স করলে পুরোনো গাড়ি থেকেও নতুনের মতো পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব।
ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন গাড়ির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি, চালকের মনোসংযোগেও ব্যাঘাত ঘটায়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক লুব্রিকেশন এবং ছোটখাটো মেরামতের কাজ জানা থাকলে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন অনেকটাই দূর করতে পারবেন। এই ব্লগে পুরোনো গাড়িতে ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন কীভাবে কমাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
কীভাবে পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের নয়েজ ও ভাইব্রেশন কমানো যায়
১. ইঞ্জিন টিউন-আপ করে সুরক্ষিত করুন
সাধারণত যান্ত্রিক ত্রুটি হলেই মূলত ইঞ্জিন থেকে শব্দ ও কম্পন অনুভূত হয়। ইঞ্জিনের স্পার্ক প্লাগ এবং ইগনিশন সিস্টেমে সমস্যা থাকলে অস্বাভাবিক বা মাত্রাতিরিক্ত শব্দ হয়। ত্রুটিপূর্ণ প্লাগ মিসফায়ার সৃষ্টি করে, সিলিন্ডার মিসফায়ার করলে ইঞ্জিন ভাইব্রেট করতে থাকে। এছাড়া ড্রাইভ বেল্ট লুজ হয়ে গেলে অস্বাভাবিক শব্দ হয়। এছাড়া এয়ার ফিল্টার এবং ফুয়েল ফিল্টার নোংরা হলে ইঞ্জিনে শব্দ ও কম্পন হতে পারে। ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল ঘর্ষণ কমিয়ে শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভালোভাবে স্পার্ক প্লাগ, ইগনিশন, থ্রটল বডি এবং ড্রাইভ বেল্ট চেক করুন।
২. ইঞ্জিন মাউন্ট চেক করুন
ইঞ্জিন মাউন্ট, ইঞ্জিনের কম্পন অ্যাবজর্ব করে। এটি রাবার এবং ধাতু দিয়ে তৈরি, যা ইঞ্জিনকে গাড়ির ফ্রেমের সাথে সংযুক্ত রাখে। গাড়ি পুরোনো হয়ে গেলে কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবহারে ইঞ্জিন মাউন্টস শুকিয়ে গিয়ে ফাটল ধরে বা নরম হয়ে যায়, তাই ইঞ্জিনের শব্দ এবং কম্পন বাইরে থেকে বোঝা যায়। ইঞ্জিন মাউন্ট সাধারণত দ্রুত নষ্ট হয় না, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে রিপ্লেসমেন্টই একমাত্র সমাধান।
৩. সাউন্ডপ্রুফিং ইনসুলেশন বা সাউন্ড ড্যাম্পিং ইনস্টল করতে পারেন
হুডের নিচে সাউন্ডপ্রুফিং ইনসুলেশন প্যাড ইনস্টল করতে পারেন, তাহলে ইঞ্জিনের শব্দ বাইরে কম ছড়ায়। ইঞ্জিনের শব্দ ও ভাইব্রেশন, গাড়ির ভেতরে আসা বন্ধ করতে হুড লাইনার, ডেডেনিং ম্যাট, ক্লোজড-সেল ফোম, এবং ড্যাম্পিং শিটের মতো আধুনিক এলিমেন্ট ব্যবহার করা যায়। এগুলো রাবার এবং ফোমের তৈরি, যা শব্দ এবং কম্পন অ্যাবজর্ব করে। ফায়ারওয়াল ইঞ্জিন এবং ড্যাশবোর্ডের মধ্যবর্তী দেয়াল, মেঝে, দরজা এবং হুডে সাউন্ডপ্রুফিং এলিমেন্ট ব্যবহার করা যায়। ভালো কোনো সার্ভিসিং সেন্টার থেকে স্বল্প খরচেই এগুলো ইনস্টল করা যায়।
৪. গাড়ির এক্সহস্ট বা সাইলেন্সার চেক করুন
গাড়ির এক্সহস্ট বা সাইলেন্সার পাইপের জয়েন্টগুলো চেক করুন, কোনো লিক আছে কিনা। পাইপ, মাফলার বা ক্যাটালাইটিক কনভার্টারে ক্ষয়, ছিদ্র বা ফাটল থাকলে, এগুলো থেকে শব্দ ও কম্পন সৃষ্টি হয়। এক্সহস্ট বা সাইলেন্সারে সাধারণ সমস্যা হলে মেরামত করাই যথেষ্ট। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রিপ্লেস করুন। এরপরও প্রত্যাশামাফিক না হলে 'এক্সহস্ট রেসোনেটর', ব্যবহার করতে পারেন।
৫. টায়ার এবং হুইলের ভারসাম্য পরীক্ষা করুন
টায়ার এবং হুইলের অ্যালাইনমেন্ট ঠিক না থাকলে গাড়িতে কম্পন অনুভূত হয়। আবার টায়ার বেশি পুরোনো বা শক্ত হয়ে গেলে রাস্তার সাথে ফ্রিকশনে বিরক্তিকর শব্দ হয়। গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইলে কম্পন অনুভব করলে দ্রুত সার্ভিসিং করতে হবে। সার্ভিসিং সেন্টারে গিয়ে গাড়ির হুইল ব্যালেন্সিং এবং অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করুন। এই ভাইব্রেশন মূলত অসামঞ্জস্য হুইল অ্যালাইনমেন্ট থেকে সৃষ্টি হয়, ইঞ্জিন থেকে নয়।
এছাড়া সাসপেনশন সেটআপ ঠিক না থাকলেও গাড়িতে কম্পন অনুভূত হয়। ইঞ্জিনের আরপিএম (Revolutions Per Minute) ঠিক না থাকলে বিরক্তিকর শব্দ সৃষ্টি হয়। গাড়ির কোনো বডি প্যানেল লুজ হয়ে গেলেও শব্দ ও কম্পন সৃষ্টি হতে পারে।
পরিশেষে
সঠিক যত্ন, মেইনটেন্যান্স, এবং সমস্যা নির্ণয় করে উপযুক্ত সমাধানের মাধ্যমে আপনি পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের অতিরিক্ত শব্দ ও কম্পন কমাতে পারবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব বেশি খরচ ছাড়াই এই সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিন টিউন-আপ, ইঞ্জিন মাউন্ট, সাউন্ড ইনসুলেশন, হুইল-টায়ার ব্যালেন্সিং, এবং এক্সহস্ট সিস্টেম, ঠিক মতো পরীক্ষা করে মেরামত করলেই ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন অনেকটাই কমে যাবে। ছোটখাটো মেরামতের কাজ জানা থাকলে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে একটি পুরোনো গাড়িও আপনাকে দীর্ঘদিন সঙ্গ দেবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. পুরোনো গাড়িতে ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন কিভাবে কমানো সম্ভব?
পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিন টিউন-আপ, ইঞ্জিন মাউন্ট, সাউন্ড ইনসুলেশন, হুইল-টায়ার ব্যালেন্সিং, এবং এক্সহস্ট সিস্টেম, ঠিক মতো পরীক্ষা করে মেরামত করলেই ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পন অনেকটাই কমে যাবে।
২. পুরোনো গাড়িতে ইঞ্জিনের কম্পন হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ইঞ্জিন মাউন্টস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ইঞ্জিন মাউন্টস শুকিয়ে গিয়ে ফাটল ধরে বা নরম হয়ে যায়, তাই ইঞ্জিনের শব্দ এবং কম্পন বাইরে থেকে বোঝা যায়।
৩. পুরোনো গাড়িতে ইঞ্জিনের শব্দ হওয়ার প্রধান কারণ কী কী?
ইঞ্জিনের স্পার্ক প্লাগ এবং ইগনিশন সিস্টেমে সমস্যা থাকলে অস্বাভাবিক বা মাত্রাতিরিক্ত শব্দ হয়। এছাড়া ড্রাইভ বেল্ট লুজ হয়ে গেলে অস্বাভাবিক শব্দ করে। এছাড়া এয়ার ফিল্টার এবং ফুয়েল ফিল্টার নোংরা হলে ইঞ্জিনে শব্দ হতে পারে।
৪. পুরোনো গাড়িতে সাউন্ডপ্রুফিং ইনসুলেশন কতটা কার্যকর?
হ্যাঁ, খুব ভালো কাজ করে। হুডের নিচে সাউন্ডপ্রুফিং ইনসুলেশন প্যাড ইনস্টল করলে ইঞ্জিনের শব্দ বাইরে কম ছড়ায়। ইঞ্জিনের শব্দ ও ভাইব্রেশন, গাড়ির ভেতরে আসা বন্ধ করতে হুড লাইনার, ডেডেনিং ম্যাট, ক্লোজড-সেল ফোম, এবং ড্যাম্পিং শিটের মতো আধুনিক এলিমেন্ট ব্যবহার করা যায়।
৫. পুরোনো গাড়ির এক্সহস্টে ফাটল কিংবা ফুটো থাকলে কী ধরণের সমস্যা হতে পারে?
গাড়ির এক্সহস্ট বা সাইলেন্সার পাইপে ক্ষয়, ছিদ্র বা ফাটল থাকলে, এগুলো থেকে বিকট শব্দ ও কম্পন সৃষ্টি হয়।







































