কখন আপনার গাড়ির টাইমিং বেল্ট বা টাইমিং চেইন পরিবর্তন করবেন

টাইমিং বেল্ট বা টাইমিং চেইন আপনার গাড়ির ইঞ্জিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। এটি ইঞ্জিনের ভেতরের বিভিন্ন পার্টসকে একসাথে কাজ করতে সাহায্য করে। এটি নষ্ট হলে ইঞ্জিনে বড় ক্ষতি হতে পারে যার মেরামত ব্যয় অনেক বেশি। কিন্তু টাইমিং বেল্ট বা চেইনে সমস্যা হলে গাড়ির অন্যান্য অংশের মতো আগে থেকে বোঝা যায় না তেমন একটা। তাই অনেক ড্রাইভারই বিষয়টি ইগনোর করেন। কিন্তু সময়মতো এটি পরিবর্তন করে ফেললে ইঞ্জিনে বড় ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
টাইমিং বেল্ট ও টাইমিং চেইনের মাঝে পার্থক্য
টাইমিং বেল্ট আর টাইমিং চেইনের মাঝে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, যা আগে জানা জরুরি। টাইমিং বেল্ট সাধারণত রাবার দিয়ে তৈরি করা হয় এবং ভেতরে শক্ত ফাইবার থাকে। এটি তেমন একটা শব্দ করে না। তবে সময়ের সাথে ক্ষয় হয়ে যায়। অন্যদিকে, টাইমিং চেইন মেটাল দিয়ে তৈরি করা হয়। তাই এটি বেশি টেকসই হয়। তবে টাইমিং চেইনও প্রয়োজনে পরিবর্তন করা লাগে।
ম্যানুফ্যাকচারারের নির্দেশিত রিপ্লেসমেন্ট পিরিয়ড
টাইমিং বেল্ট বা চেইন কখন পরিবর্তন করতে হবে, সে বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন আসে গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারারের পক্ষ থেকে। সাধারণত, টাইমিং বেল্ট প্রতি ৬০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ কিলোমিটার ড্রাইভ করার পর পরিবর্তন করতে হয়। তবে এটি গাড়ির মডেল ও ড্রাইভিং কন্ডিশনের ওপর বেশি নির্ভর করে। টাইমিং চেইন পরিবর্তন করার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেয়া থাকে না। তবে গাড়ির নিয়মিত সার্ভিসিং এর সময় এটি অবশ্যই চেক করা উচিত।
যেই সাইনগুলো ইগনোর করা উচিত নয়
ক্ষয় হয়ে যাওয়া টাইমিং বেল্ট বা চেইন সবসময় বোঝা যায় না। তবে একটু খেয়াল করলে কিছু লক্ষণ বোঝা যেতে পারে। যেমন - ইঞ্জিন থেকে টিক টিক শব্দ আসা, গাড়ি স্টার্ট নিতে দেরি করা, ইঞ্জিন মিসফায়ার করা বা আইডল অবস্থায় ভাইব্রেট করা ইত্যাদি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চেক ইঞ্জিন লাইট’ও জ্বলে উঠতে পারে। বিশেষ করে বেশি মাইলেজের গাড়িতে এসব লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
সময়মতো পরিবর্তন কেন জরুরি
গাড়ি ড্রাইভ করার সময় যদি টাইমিং বেল্ট ছিঁড়ে যায়, তাহলে ইঞ্জিনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। ইন্টারফিয়ারেন্স ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরো বেশি। এমতাবস্থায় ভাল্ভ ও পিস্টন একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। টাইমিং বেল্ট বা চেইন সময়মতো পরিবর্তনের খরচ, ইঞ্জিন মেরামতের খরচের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু একবার ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়। তাই আগেভাগে মেইনটেন্যান্স করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিসংহার
টাইমিং বেল্ট বা চেইন বাইরে থেকে দেখা না গেলেও এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইঞ্জিন হেলথ মেইনটেইন করতে এটি ঠিক রাখা দরকার। তাই ম্যানুফ্যাকচারারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেল্ট বা চেইন রিপ্লেস করা, অগ্রিম সংকেতগুলো ইগনোর না করা এবং নিয়মিত মেইনটেন্যান্স বেশ জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আপনি যেমন বড় ক্ষতি এড়াতে পারবেন, তেমনি নিজের ও নিজের প্যাসেঞ্জারদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. আমার গাড়িতে কি টাইমিং বেল্ট আছে নাকি টাইম চেইন, কীভাবে বুঝবো?
গাড়ির সাথে আসা ম্যানুয়াল চেক করতে পারেন বা কোনো অভিজ্ঞ মেকানিকের থেকে জেনে নিতে পারেন।
২. টাইমিং চেইন কী আজীবন টিকে থাকে?
না। টাইমিং চেইন টেকসই হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে এটি আগেই নষ্ট হতে পারে।
৩. ক্ষয়প্রাপ্ত টাইমিং বেল্ট নিয়ে গাড়ি চালানো কি নিরাপদ?
না। যেকোনো সময় এটি ছিঁড়ে গিয়ে ইঞ্জিনের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
৪. টাইমিং বেল্ট বদলানোর সময় অন্য কোনো যন্ত্রাংশও কি বদলানো উচিত?
হ্যাঁ। সাধারণত ওয়াটার পাম্প, টেনশনার ও পুলি একসঙ্গে পরিবর্তন করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে সমস্যা না হয়।
৫. টাইমিং বেল্ট পরিবর্তনের খরচ কি খুব বেশি?
শুরুতে খরচ বেশি মনে হলেও, ইঞ্জিন মেরামত খরচের তুলনায় এটি অনেক কম।







































