খারাপ রাস্তায় নিয়মিত হুইল অ্যালাইনমেন্ট উপেক্ষা করলে কী হতে পারে?

Md. Anowarul Haque
time
4 মিনিটে পড়া যাবে
feature image

হুইল অ্যালাইনমেন্ট হলো গাড়ির চাকাগুলো সঠিক কোণে এবং রাস্তার সাথে সমান্তরাল পরিমাপে রাখা। এতে গাড়ি সোজা এবং স্থিরভাবে চলতে পারে। উঁচু-নিচু রাস্তা, স্পিড ব্রেকার, ভাঙা, অসমতল, কিংবা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতে গাড়ির টায়ার, চাকা এবং সাসপেনশনের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। রুক্ষ রাস্তায় ধাক্কা-ঝাঁকুনিতে গাড়ির অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। এতে চালকের নিয়ন্ত্রণ কমে যায় এবং গাড়ির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আমরা অনেকেই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেই না। এতে গাড়ির পারফরম্যান্স এবং স্থায়িত্ব কমার পাশাপাশি বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা থাকে।

রুক্ষ রাস্তায় যাতায়াত করলে নিয়মিত হুইল অ্যালাইনমেন্ট করা উচিত। হুইল অ্যালাইনমেন্ট উপেক্ষা করলে টায়ারের স্থায়িত্ব কমে, হ্যান্ডলিং ও স্ট্যাবিলিটি কমে, ফুয়েল খরচ বাড়ে, এবং বিভিন্ন পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ব্লগে খারাপ রাস্তায় নিয়মিত হুইল অ্যালাইনমেন্ট না করলে কী হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

রুক্ষ রাস্তায় নিয়মিত হুইল অ্যালাইনমেন্ট না করালে গাড়িতে কী সমস্যা দেখা দেয়?

অসমতল কিংবা রুক্ষ রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতে একটি গাড়ির হুইল অ্যালাইনমেন্টের ৩টি প্রধান কোণ (ক্যাম্বার, টো এবং কাস্টার) এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। এতে গাড়ি একপাশে হেলে যাওয়া, টায়ার ক্ষয়ে যাওয়া, স্টিয়ারিং কাঁপতে থাকা, এমনকি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ঝুঁকি তৈরী হতে পারে।

১. দ্রুত অসম টায়ার ক্ষয়

নিয়মিত হুইল অ্যালাইনমেন্ট না করালে চাকাগুলো রাস্তার সাথে সঠিক সমান্তরালে থাকে না। এতে গাড়ি একপাশে হেলে যায়, তাই একটি নির্দিষ্ট অংশের চাকার উপর চাপ পরে। এতে দ্রুত টায়ার ক্ষয় হতে থাকে। টায়ারের গ্রিপ ক্ষয়ে গেলে চাকার ঘূর্ণন প্রতিরোধ বেড়ে যায় এবং ভেজা রাস্তায় স্লিপ করে। টায়ার ক্ষয়ে গেলে গাড়ি ঘোরাতেও সমস্যা হয়। এই ধরনের অসম টায়ার ক্ষয় ক্যাম্বার বা টো অ্যালাইনমেন্ট সমস্যার কারণে হতে পারে। নিয়মিত অ্যালাইনমেন্ট চেক করলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

২. সাসপেনশন সহ অন্যান্য পার্টসের ওপর চাপ পরে

হুইল অ্যালাইনমেন্ট ঠিক না থাকলে গাড়ির সাসপেনশন এবং এর সাথের পার্টসগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পরে। সাসপেনশন পার্টসগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে কাজ করতে থাকে, এতে গাড়ি বল জয়েন্ট, টাই-রড, স্প্রিং এবং সাসপেনশন বুশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তার ঝাঁকুনি অ্যাবজর্ব করার ক্ষমতা কমে যায়। সময়ের সাথে সাথে সাসপেনশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং একসময় ব্যয়বহুল সার্ভিসিং-এর প্রয়োজন হতে পারে।

৩. হ্যান্ডলিং এবং স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যা

অ্যালাইনমেন্টে কোনো সমস্যা হলে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। সোজা রাস্তায় স্টিয়ারিং ছেড়ে দিলেও গাড়ি মাঝখানে না থেকে সরে যেতে পারে। এছাড়া বেশি স্পিডে স্টিয়ারিং হুইল কাঁপে। অ্যালাইনমেন্ট ঠিক না থাকলে গাড়ি কর্ণারিং কিংবা মোড় ঘোরানোর সময় স্লিপ করতে পারে। দুর্বল অ্যালাইনমেন্টের কারণে রুক্ষ বা অসম রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

৪. জ্বালানি এবং অপারেটিং খরচ বাড়ে কীভাবে

হুইল অ্যালাইনমেন্টের পরিমাপ ঠিক না থাকলে চাকা মসৃণ ভাবে ঘুরতে পারে না। এতে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, তাই জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য অংশের ক্ষয়-ক্ষতি বাড়ায়। দীর্ঘদিন এ অবস্থায় চললে টায়ার, বিয়ারিং, বুশিং, শক অ্যাবজর্বার, স্টিয়ারিং, ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বাড়ে।

৫. নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে

নিরাপত্তা ঝুঁকি সবথেকে বড় বিষয়। অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা থাকলে স্টিয়ারিং সোজা থাকবে না, গাড়িটি একদিকে সরে যেতে পারে। অমসৃণ রাস্তায় টায়ার গ্রিপ সময়ের আগেই ক্ষয় হয়ে যায়, তার ওপর অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা থাকলে বৃষ্টির দিনে বা ইমার্জেন্সি ব্রেকিং-এ গাড়ি স্কিড করতে পারে। হ্যান্ডলিং খারাপ হওয়ায় কর্ণারিং-এ ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া খারাপ রাস্তায় রাইড কোয়ালিটিও খারাপ হয়, তাই কম্ফোর্টেবল ভাবে ড্রাইভ করা যায় না।

হুইল অ্যালাইনমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ এবং কখন চেক করবেন

  • গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল সোজা থাকে না।
  • স্টিয়ারিং সোজা রাখলেও গাড়ি ডানে বা বামে সরে যায়।
  • স্টিয়ারিং ঘোরাতে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয় বা খুব হালকা লাগে।
  • গাড়ির ভেতরে কম্পন অনুভূত হলে।
  • গাড়ি কর্ণারিং বা ঘুরানোর সময় অস্বাভাবিক শব্দ হলে।
  • টায়ার ট্রেডে অসম ক্ষয় হলে বা একপাশে বেশি ক্ষয়ে গেলে।
  • রুক্ষ রাস্তায় যাতায়াতে অথবা বড় গর্তের ধাক্কার পরে প্রতি ৩ মাস পরপর চাকার অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করা উচিত।
  • পরিশেষে

    বাংলাদেশের হাইওয়ে রোড মোটামুটি ভালো হলেও, শহর এবং মফস্বল এলাকার বেশিরভাগ রাস্তা অসমতল। এছাড়া রাস্তায় গর্ত, খানাখন্দ এবং ঘনঘন স্পিডব্রেকার তো আছেই। অ্যালাইনমেন্ট সমস্যা থাকলে ঢালু এবং পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ির স্থিতিশীলতা কমে যেতে পারে। অ্যালাইনমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চেক করুন এবং সার্ভিসিং সেন্টারে দেখান। নিয়মিত হুইল অ্যালাইনমেন্ট উপেক্ষা করলে নিরাপত্তার ঝুঁকি সহ গাড়ি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

    ১. হুইল অ্যালাইনমেন্ট কী?

    হুইল অ্যালাইনমেন্ট হলো গাড়ির চাকাগুলো সঠিক কোণে এবং রাস্তার সাথে সমান্তরাল পরিমাপে রাখা। এতে গাড়ি সোজা এবং স্থিরভাবে চলতে পারে।

    ২. খারাপ রাস্তায় নিয়মিত চাকা অ্যালাইনমেন্ট না করলে প্রথমে কী সমস্যা দেখা যায়?

    দ্রুত অসম টায়ার ক্ষয় হয়। এতে গাড়ি একপাশে হেলে যায়, স্টিয়ারিং কাঁপতে থাকে, এমনকি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ঝুঁকি তৈরী হতে পারে।

    ৩. কীভাবে বুঝবেন অ্যালাইনমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

    গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল সোজা থাকে না। স্টিয়ারিং সোজা রাখলেও গাড়ি ডানে বা বামে সরে যায়। এবং গাড়ির ভেতরে কম্পন অনুভূত হলে বুঝবেন অ্যালাইনমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ৪. অ্যালাইনমেন্ট ঠিক না থাকলে জ্বালানি খরচে কী কোনো প্রভাব পড়ে?

    হুইল অ্যালাইনমেন্টের পরিমাপ ঠিক না থাকলে চাকা মসৃণ ভাবে ঘুরতে পারে না। এতে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, তাই জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়।

    ৫. রুক্ষ রাস্তায় কতদিন পরপর অ্যালাইনমেন্ট চেক করা উচিত?

    রুক্ষ রাস্তায় যাতায়াতে প্রতি ৩ মাস পরপর চাকার অ্যালাইনমেন্ট চেক করা উচিত।

    অনুরূপ খবর

    • Maintenance & Care Tips

      যানবাহনের ইঞ্জিন মিসফায়ারিং এর লক্ষণগুলো কীভাবে শনাক্ত করবেন?

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      ধুলোপ্রবণ শহরে নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকায় মরিচা ও ক্ষয় যেভাবে প্রতিহত করবেন

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশন: ৮০-১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে স্টিয়ারিং হুইল ভাইব্রেশনের কারণ কী?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      নিজ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ওয়ার্কশপ কীভাবে বেছে নেবেন

      time
      3 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      মোটরসাইকেল চেইন-স্প্রকেট ক্ষয়ঃ কখনো বদলানো অনিবার্য?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      দূষিত শহরে গাড়ির কেবিনের বাতাস পরিষ্কার রাখার উপায়

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      টায়ার বদলের পর কীভাবে সঠিক হুইল ব্যালেন্স বজায় রাখবেন?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      নিম্নমানের জ্বালানিতে স্পার্ক প্লাগের আয়ু কীভাবে বাড়াবেন?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে
    • Maintenance & Care Tips

      খারাপ রাস্তায় নিয়মিত হুইল অ্যালাইনমেন্ট উপেক্ষা করলে কী হতে পারে?

      time
      4 মিনিটে পড়া যাবে

    সর্বশেষ গাড়ির রিভিউ

    • Suzuki Alto K10 2015

      Hatchback

      ৳ 800K - 1.2M

    • Toyota Aqua 2014

      Hatchback

      ৳ 1.5M - 1.6M

    • Suzuki Swift 2017

      Hatchback

      ৳ 1.7M - 2.2M

    • Toyota Vitz 2017

      Hatchback

      ৳ 1.8M - 2.3M

    • Nissan Leaf 2014

      Hatchback

      ৳ 1.6M - 2.2M

    • Mitsubishi Montero 2015

      SUV & 4X4

      ৳ 4.5M - 6M

    • Suzuki Wagon R 2018

      Hatchback

      ৳ 750K - 1.1M

    • Honda Civic 2019

      Saloon & Sedan

      ৳ 3.5M - 4.5M

    • Land Rover Defender 2020

      SUV & 4X4

      ৳ 14M - 18M

    • Mitsubishi Lancer 2017

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.5M - 3M

    • Toyota Axio 2016

      Saloon & Sedan

      ৳ 1.8M - 2.4M

    • Toyota Premio G Superior 2018

      Saloon & Sedan

      ৳ 2.3M - 3M

    সর্বশেষ বাইকের রিভিউ

    • Hero Ignitor 125 2020 IBS

      ৳ 115.7K - 128.5K

    • Honda X-Blade 160 ABS

      ৳ 194.9K - 216.5K

    • Honda Livo 110 Drum

      ৳ 107.9K - 119.9K

    • Keeway TXM 150

      ৳ 161.1K - 179K

    • Suzuki Gixxer Monotone

      ৳ 182K - 192K

    • Suzuki Gixxer SF Matt Plus

      ৳ 315K - 350K

    • Yamaha R15 S

      ৳ 409.5K - 455K

    • Hero Hunk 150 R Dual Disc ABS

      ৳ 166.1K - 232K

    • TVS Apache RTR 165 RP

      ৳ 297K - 360K

    • Suzuki Intruder FI ABS

      ৳ 247.5K - 320K

    • Suzuki Bandit 150

      ৳ 288K - 320K

    • KTM RC 125

      ৳ 333K - 566K

    hero

    Bikroy এ মাত্র ২ মিনিটে আপনার গাড়ি বা মোটরবাইকের বিজ্ঞাপন দিন!