বাজে রাস্তায় কেন হুইল বেয়ারিং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়

যদিও আকারে ছোট, তবে গাড়ির হুইল বেয়ারিং বেশ বড় দায়িত্ব পালন করে। এটি চাকার মসৃণ ঘুর্নণ নিশ্চিত করে এবং একইসাথে গাড়ির পুরো ওজন বহন করে। কিন্তু খারাপ ও ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করলে এই অংশটি সব সময় বাড়তি চাপের মধ্যে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ড্রাইভার হুইল বেয়ারিং নিয়ে ভাবেন না, যতক্ষণ না কোনো অস্বাভাবিক শব্দ কানে আসা শুরু হয়। ততক্ষণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যায়।
গর্ত ও ভাঙা রাস্তার লাগাতার ধাক্কা
খারাপ রাস্তা মানেই হুইল বেয়ারিংয়ে বারবার ধাক্কা। গাড়ির হুইল যখন গর্তে পড়ে বা ভাঙা অংশে আঘাত পায়, তখন সেই ধাক্কার একটা অংশ সরাসরি হুইল বেয়ারিংয়ের ওপর যায়। আপনি যদি প্রায়ই ভাঙা রাস্তা দিয়ে ড্রাইভ করেন, তাহলে বেয়ারিংয়ের ভেতরের অংশ ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে। শহরের ভেতরে বা মহাসড়কে যেখানে রাস্তা ভালো থাকে না, সেখানে এই ক্ষয় অনেক দ্রুত হয় এবং বেয়ারিংয়ের আয়ু কমে যায়।
পানি, কাদা ও ধুলাবালির প্রবেশ
হুইল বেয়ারিং সাধারণত সিল করা থাকে। কিন্তু বাজে রাস্তায় ক্রমাগত ড্রাইভ করলে সেই সিল অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। তখন পানি, কাদা বা ধুলা ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধ রাস্তায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় এবং ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে। পানি ঢুকে গেলে ভেতরের গ্রিজ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ঘর্ষণ বেড়ে যায় এবং বেয়ারিং দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে।
অতিরিক্ত লোড ও ওজনের অসম ডিস্ট্রিবিউশন
গাড়িতে বেশি ওজন নিয়ে খারাপ রাস্তায় ড্রাইভ করলে হুইল বেয়ারিংয়ের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যায়। যদি গাড়ির ভেতরে ওজন সমানভাবে বিতরণ করা না হয়, তাহলে কিছু বেয়ারিংকে অন্যগুলোর তুলনায় বেশি চাপ নিতে হয়। এই বাড়তি চাপ আর রাস্তার ধাক্কা একসাথে মিলে বেয়ারিংয়ের ক্ষয় অনেক দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
হুইল অ্যালাইনমেন্ট ও সাসপেনশনের সমস্যা
ভাঙাচোরা রাস্তা গাড়ির হুইল অ্যালাইনমেন্ট খুব সহজেই নষ্ট করে দেয়। অ্যালাইনমেন্ট ঠিক না থাকলে বেয়ারিংয়ের ওপর চাপ সমানভাবে পড়ে না। আবার সাসপেনশনের পার্ট যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে রাস্তার ধাক্কা ঠিকভাবে অ্যাবজর্ব করতে পারে না। তখন সেই বাড়তি চাপ সরাসরি হুইল বেয়ারিংয়ের ওপর পড়ে। এতে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে ক্ষতি বাড়তে থাকে।
প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করা
অনেক ড্রাইভার হালকা শব্দ, হুইল থেকে ভাইব্রেশন বা স্টিয়ারিংয়ে সামান্য অস্বস্তি অনুভব করলেও গুরুত্ব দেন না। বেশিরভাগ সময় মনে হয়, হয়তো টায়ার বা রাস্তার কারণেই এমন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এগুলো নষ্ট হতে থাকা হুইল বেয়ারিংয়ের শুরুর লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন ড্রাইভ করলে ভেতরে হিট ও ফ্রিকশন বেড়ে যায় এবং একসময় বেয়ারিং পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে।
পরিসংহার
হুইল বেয়ারিং হঠাৎ করেই নষ্ট হয়ে যায় না। খারাপ রাস্তা, পানি ও ধুলাবালির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত লোড এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ না করাই এর পেছনের মূল কারণ। শুরুতেই যদি লক্ষণগুলো ধরা যায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে হুইল বেয়ারিংয়ের আয়ু অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব এবং বড় খরচ থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. হুইল বেয়ারিং নষ্ট হওয়ার প্রথম লক্ষণ কী?
হুইল থেকে শব্দ হওয়া, ভাইব্রেট করা এবং স্টিয়ারিংয়ের অস্বাভাবিক আচরণ হুইল বেয়ারিং নষ্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ।
২. গর্তে পড়লে কি হুইল বেয়ারিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
হ্যাঁ। বারবার গর্তে পড়লে বেয়ারিংয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়।
৩. পানির মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালালে কি বেয়ারিং নষ্ট হয়?
হ্যাঁ। সিল নষ্ট থাকলে পানি ঢুকে গ্রিজের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে ফ্রিকশন বেড়ে যায় এবং বেয়ারিং দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে।
৪. হুইল বেয়ারিং নষ্ট হওয়া কি বিপজ্জনক?
হ্যাঁ। এতে স্টিয়ারিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যায় এবং বিভিন্ন অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
৫. কীভাবে হুইল বেয়ারিংয়ের আয়ু বাড়ানো যায়?
বাজে রাস্তায় ধীরে ড্রাইভ করা, অতিরিক্ত লোড না নেয়া, সাসপেনশন ঠিক রাখা এবং শব্দ পেলেই পরীক্ষা করানো, এই অভ্যাসগুলোর মাধ্যমে হুইল বেয়ারিংয়ের আয়ু বাড়ানো সম্ভব।







































