দৈনন্দিন অফিস যাতায়াতের জন্য সঠিক মোটরসাইকেল কীভাবে নির্বাচন করবেন

দৈনন্দিন অফিস যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল কিনতে গিয়ে শুধু লুক বা ব্র্যান্ড ভ্যালুকে প্রাধান্য দিলে হবে না। এই ক্ষেত্রে আরাম ও নির্ভরযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। দৈনন্দিন অফিস যাতায়াতের জন্য এমন বাইক দরকার যেটি আপনার দৈনিক রুটিনের সাথে সহজে মানিয়ে যায়। কারণ, অফিসে যাতায়াত অনেক সময় ট্রাফিকের কারণে অনেক স্ট্রেসফুল হয়ে ওঠে। তাই সঠিক বাইকটা নিতে পারলে এই চাপটা অনেকটাই কমে যায়।
আরামকে অগ্রাধিকার দিন
বাইকের লুক যতো ভালোই হোক, রাইড করে আরাম না থাকলে তা ভালো লাগে না। অফিসে যাতায়াতের জন্য বাইক সাধারণত শো-অফ করার জন্য ব্যবহার করা হয় না। এর মূল কাজ হলো আপনাকে আরামে অফিসে পৌঁছে দেওয়া। ট্রাফিকের কারণে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বাইকে বসে থাকতে হয়। তাই আরামদায়ক রাইডিং পজিশন, সিট নরম ও আরামদায়ক এবং হ্যান্ডেলবারের সঠিক উচ্চতা দেখে বাইক কেনা উচিত।
ইঞ্জিন পাওয়ার ও সাইজ যেন আপনার রুটের সাথে মানানসই হয়
আপনি যদি শহরে বসবাস করেন, তাহলে মাঝারি সাইজের ইঞ্জিনের বাইকই আপনার জন্য ভালো হবে। বেশি পাওয়ার এমনিতেও ট্রাফিকের কারণে ব্যবহার করা যায় না। আর এতে করে ফুয়েল ও মেইনটেন্যান্স খরচও বেড়ে যায়। তাই এমন বাইক বেছে নিন যেটার ইঞ্জিন স্মুথ, রিফাইন্ড এবং কম ও মাঝারি গতিতে ভালো পারফরম্যান্স দেয়।
ফুয়েল এফিশিয়েন্সি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
দৈনিক অফিসের যাতায়াত মানেই দৈনিক ফুয়েল খরচ। তাই ভালো ফুয়েল এফিশিয়েন্সির বাইক আপনার জ্বালানি খরচ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। আর কম ডিসপ্লেসমেন্টের ইঞ্জিনগুলোই সাধারণত ভালো ফুয়েল এফিশিয়েন্সি দেয় এবং শহরের ট্রাফিকের মাঝে এগুলো চালানোটাও তুলনামূলক সহজ হয়।
কম মেইনটেন্যান্স লাগবে এমন বাইককে প্রাধান্য দিন
দৈনন্দিন ব্যবহারের বাইকগুলোতে সাধারণত বিভিন্ন ধরণের ক্ষয় বেশি হয়। তাই এমন বাইক বেছে নেয়া দরকার যার পার্টস সহজে পাওয়া যায় এবং সহজেই সার্ভিসিং করানো যায়। কারণ আপনার বাইক যদি অনেকটা সময় সার্ভিস সেন্টারেই পরে থাকে তাহলে আপনার অফিস যাতায়াত ব্যাহত হতে পারে।
সেফটি ও প্র্যাক্টিকালিটি ফিচারগুলো দেখে নিন
দৈনন্দিন অফিস যাতায়াতের জন্য আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে - ভালো ব্রেক, নির্ভরযোগ্য টায়ার আর ভালো হেডলাইট। কারণ, প্রায়ই আপনাকে বৃষ্টি, ধুলোবালি আর কম আলোতে রাইড করতে হবে। এর পাশাপাশি বাইকের সাসপেনশন যথেষ্ট আরামদায়ক কি না এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ঠিক আছে কি না সেটাও দেখে নেয়া উচিত।
উপসংহার
আপনার দৈনন্দিন অফিস যাতায়াতের বাইক যেন এমন হয় যেটার পেছনে আপনাকে খুব বেশি সময় ব্যয় না করতে হয়। তাই এমন বাইক বেছে নিন যেটি আপনার রুটিনের সাথে খুব সহজেই মানিয়ে যাবে এবং অযথা কোনো ঝামেলার কারণ হয়ে উঠবে না। সহজ কথায়, অফিসের জন্য বাইক কেনার ক্ষেত্রে এই ৪টি বিষয়কে প্রাধান্য দিন, যথা - আরাম, ফুয়েল এফিশিয়েন্সি, নির্ভরযোগ্যতা এবং সেফটি।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. স্পোর্টস বাইক কী অফিসে যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত?
না। স্পোর্টস বাইকগুলো সাধারণত পারফরম্যান্সের জন্য তৈরি করা হয়, আরাম বা ফুয়েল এফিশিয়েন্সির জন্য নয়।
২. অফিস কমিউটের জন্য কোন ইঞ্জিন ভালো?
অফিস কমিউটের জন্য সাধারণত ছোট থেকে মাঝারি সাইজের ইঞ্জিনগুলো ভালো, কারণ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ ও ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়।
৩. ফুয়েল এফিশিয়েন্সি কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
হ্যাঁ। কারণ ভালো ফুয়েল এফিশিয়েন্সি আপনার মাসিক খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
৪. ব্র্যান্ড নাকি আরাম - কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
আরামই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাইক আরামদায়ক না হলে ভালো ব্র্যান্ডের বাইকেও দৈনন্দিন ব্যবহার করতে সমস্যা হবে।
৫. কমিউটার বাইকের জন্য কোনো সেফটি ফিচারগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
কমিউটার বাইকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলোর মাঝে রয়েছে - ভালো মানের ব্রেক, টায়ার আর হেডলাইট।







































