বাংলাদেশের দুই লেনের হাইওয়েতে নিরাপদ ওভারটেকিং পদ্ধতি

বাংলাদেশের দুই লেনের হাইওয়েতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারদের জন্য অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হয়ে যায়। সেখানে অনেক প্রকারের গাড়ি অনেক ধরণের গতিতে চলে, ফলে ওভারটেক করা অনেক সময় বাধ্যতামূলক হয়ে পরে। কিন্তু একই সময়ে এটিও সত্য যে হাইওয়েতে বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনের মূল কারণ হলো ওভারটেকিং। তাই গাড়ি নিয়ে হাইওয়েতে ওঠার আগে সকল ড্রাইভারের নিরাপদ ওভারটেকিং সম্পর্কে জেনে নেয়া দরকার।
কখন ওভারটেক করবেন না?
তাড়াহুড়ো বা চাপের মধ্যে কখনোই ওভারটেক করা উচিত নয়। আর সামনের রাস্তা পরিষ্কার দেখা না গেলে পেছনে থাকাটাই শ্রেয়। বাংলাদেশের হাইওয়েগুলোতে কার্ভ, ব্রিজ ও রাস্তার পাশের দোকান বেশ সাধারণ বিষয়। এসব আয়গায় ভুল করলেই ঘটতে পারে ভয়াবহ পরিণতি। হাইওয়েতে পরিস্থিতি কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই বদলে যেতে পারে- এটা সবসময় মাথায় রাখুন। তাই ঠিকভাবে ওভারটেক কমপ্লিট করতে পারবেন এটা শিওর না থাকলে ওভারটেক না করাই ভালো।
গতি ও দুরত্বকে আরও গুরুত্ব দিন
ওভারটেক করার সময় গতি ও দুরত্বের বিষয় মাথায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িগুলো অনেক সময় বাস্তবের চেয়ে বেশি ধীর মনে হয়। এই গতি ও দুরত্বের হিসাব ঠিকভাবে না করতে পারার কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তাই একমাত্র পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারলেই ওভারটেক করবেন, নইলে এড়িয়ে চলুন।
সিগন্যাল দিতে ভুলবেন না
হাইওয়েটে সিগন্যাল দেয়ার বিষয়টাকে অনেক ড্রাইভারই গুরুত্ব দেন না। তবে নিরাপদ ওভারটেকিংয়ের মূল চাবিকাঠি হলো আত্মনিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নয়। এখানে নিয়মটা বেশ সহজ - নিজের লেন পরিবর্তন করার আগে অবশ্যই ইন্ডিকেটর ব্যবহার করতে হবে। এতে করে পেছনের ড্রাইভার আপনার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী নিজের গতি ও অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। এতে করে উভয় পক্ষই নিরাপদ থাকে।
একসাথে একাধিক গাড়ি ওভারটেক করতে যাবেন না
দুই লেনের হাইওয়েতে একটা গাড়ি ওভারটেক করাই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। সেখানে একাধিক গাড়ি একসাথে ওভারটেক করার চেষ্টা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ সামনের যেকোনো গাড়ি হঠাৎ টার্ন নিতে পারে বা ব্রেক করতে পারে। তাই একবারে একটি গাড়িই ওভারটেক করুন এবং নিরাপদ মনে হলেই দ্রুত নিজের লেনে ফিরে আসুন।
আবহাওয়া ও রাস্তার কন্ডিশন মাথায় রাখুন
বাংলাদেশের হাইওয়েগুলোতে কুয়াশা, ধুলোবালি ও বৃষ্টি অনেক সমস্যা তৈরি করে। শীতের সকাল ও বর্ষার মৌসুমে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে করে ভিজিবিলিটি অনেক কমে যায় ও রোডে ভালো গ্রিপ পাওয়া যায় না। এই সময়ে বেশি গতিতে ওভারটেক করতে গেলে গাড়ি পিছলে যাওয়া বা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই সময়গুলোতে ওভারটেকিং এড়িয়ে চলাই ভালো।
উপসংহার
নিরাপদ ওভারটেকিংয়ের জন্য আত্মবিশ্বাসের চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাইওয়েতে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা চালকের অদক্ষতার কারণে নয়, বরং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে হয়ে ঘটে থাকে। তাই ওভারটেক করার আগে নিজেকে ভাবার সময় দিন এবং বুঝে নিন যে এখন ওভারটেক করা উচিত কি না। এই সামান্য সতর্কতাই আপনাকে বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. দুই লেনের হাইওয়েতে ওভারটেকিং কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
কারণ দুই লেনের হাইওয়েতে বিপরীতমুখী গাড়িগুলো খুব কাছাকাছি দুরত্বে চলে, এতে করে ড্রাইভারদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
২. কখন ওভারটেক করা উচিত না?
টার্ন, ব্রিজ ও বাজার এলাকা এবং যেসব স্থানে সামনের রাস্তা ঠিকভাবে দেখা যায় না, সেখানে ওভারটেক করা এড়ানো উচিত।
৩. রাতে ওভারটেক কি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
হ্যাঁ। কম ভিজিবিলিটি ও হাই-বিম লাইটের অপব্যবহার এবং দুরত্ব বুঝতে সমস্যা হওয়ার কারণে রাতে ওভারটেক করা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. কোন গাড়িগুলো ওভারটেক করার সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে?
বাস ও ট্রাকের মতো বড় গাড়িগুলো ভিজিবিলিটি অনেক কমিয়ে দেয় এবং এগুলো ওভারটেক করতে বেশি জায়গা লাগে। তাই সামনের রাস্তা পরিষ্কার দেখতে না পেলে এগুলো ওভারটেক করতে যাওয়া উচিত না।
৫. ওভারটেকিংয়ের ক্ষেত্রে আবহাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কুয়াশা, ধুলোবালি আর বৃষ্টি ভিজিবিলিটি ও রোডের গ্রিপ কমিয়ে দেয়। ফলে স্কিড করার বা ভুল সিদ্ধান্ত নেয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।







































